দুইশ বছরের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা। স্থানীয়ভাবে ‘বাসিয়া হাটি’ নামে পরিচিত এ মেলা দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণত শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন মেলাটি আয়োজন করা হয়। তবে এবার উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি ও আয়োজনের ব্যাপকতা বিবেচনায় সময় পরিবর্তন করে শুক্রবার মেলার দিন নির্ধারণ করা হয়।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এ মেলা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা, পোশাক ও সামাজিক রীতিনীতির পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মিলন, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে।
মেলা উপলক্ষে প্রচারিত সচেতনতামূলক বার্তায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আত্মমর্যাদা ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অবমাননাকর বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচার পরিহার করে সঠিক তথ্য প্রচার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনাজপুর জেলা আদিবাসী যুব সমাজের প্রচারে মেলাটির আয়োজন করা হয়।
দুইশ বছরের এ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মেলার ইতিহাস নথিবদ্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বাসিয়া হাটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









