মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জপমালা রানী মা মারীয়া তীর্থোৎসব। উপজেলার হরিণছড়া চা-বাগানে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত নানাবিধ অনুষ্ঠানে ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ঢল নামে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ তীর্থোৎসবের পর্দা নামে রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
আয়োজকরা জানান, এ উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মহা খ্রিষ্টযাগ। উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিন রবিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় তীর্থের প্রধান আকর্ষণ ‘মহা খ্রিষ্টযাগ’। সিলেট ধর্ম প্রদেশ এর বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ এই মহা খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন।
শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ তার ধর্মীয় বয়ানে বলেন, ‘‘ঈশ্বর কুমারী মারীয়াকে বেছে নিয়েছেন তার পুত্রের জননী করার জন্য। মা মারীয়া হলেন মানবজাতির উদ্ধারকর্তা ঈশ্বরপুত্র যিশুখ্রিষ্টের মা। জপমালা প্রার্থনার সময় স্তবে তাকে অমলোদ্ভবা মারীয়া বলা হয়, কারণ ঈশ্বর তাকে অলৌকিকভাবে কুমারী অবস্থায় গর্ভধারণের মাধ্যমে মুক্তিদাতা যিশুখ্রিস্টের মা হওয়ার পরম মর্যাদা দান করেছেন।’’
তীর্থ উদযাপন কমিটির সভাপতি ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ বলেন, ‘‘শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যমণ্ডিত হরিণছড়ার এই স্থানটি সিলেট ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ড্যাইসিসের একমাত্র অনুমোদিত তীর্থস্থান। প্রতিবছর সিলেট বিভাগ ছাড়াও সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার খ্রিষ্টভক্ত এখানে এসে তীর্থযাত্রায় অংশ নেন এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ খোঁজেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘তীর্থোৎসবে আসা ভক্তরা তাদের ব্যক্তিগত নানা মানত পূরণ ও আত্মিক শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল অনুতাপ প্রার্থনা ও পাপস্বীকার, বিশেষ আরাধনা সংস্কার, জীবন্ত ক্রুশের পথ, জপমালা প্রার্থনা ও জপমালা রানী মা মারীয়ার কাছে ধরণির সকল মানবের কল্যাণে বিশেষ আরতি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









