টানা আট দিনের ছুটি শেষে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলেও সার্ভার জটিলতায় প্রথম দিন থেকেই ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্য। শনিবার সীমিত পরিসরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কিছু পচনশীল পণ্য খালাস করা হলেও রবিবার দুপুর পর্যন্ত অনলাইনে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর বেনাপোল বন্দরে অনলাইনে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট ১১৭টি ট্রাকে পণ্য পরিবহন হয়। এর মধ্যে ভারত থেকে ৭৬টি ট্রাকে পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ৪১টি ট্রাকে পণ্য রপ্তানি করা হয়।
তবে সার্ভার জটিলতার পাশাপাশি ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রমেও বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এর আগে শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। তবে এ সময়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছুটি শেষে শনিবার থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছুটিতে কর্মস্থলের বাইরে থাকা বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাসে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ছুটির সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াতও স্বাভাবিক ছিল।
তবে কার্যক্রম চালু হলেও সার্ভার জটিলতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ছুটির পর বাণিজ্য শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এক দিনের বেশি সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বিঘ্ন ঘটে।
অন্যদিকে ভারতের পেট্রাপোল, বনগাঁ ও চাকদহ সড়ক এলাকায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাত দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। শনিবার থেকে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সার্ভার জটিলতায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কিছু পচনশীল পণ্য আমদানি করা হয়। রবিবার দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে সার্ভার সচল হওয়ার পর অনলাইনে কার্যক্রম শুরু হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘দুপুরের পরও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে বিলম্ব হচ্ছিল। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছিল। সার্ভার জটিলতা প্রায়ই দেখা দেওয়ায় পণ্য খালাস ব্যাহত হয় এবং বন্দরে পণ্যজট বাড়ে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’’ সার্ভার সচল থাকলে ছুটির পর প্রথম দিনেই আরও বেশি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আনু। তিনি বলেন, ‘‘ছুটি শেষে শনিবার থেকে পণ্য প্রবেশের কথা থাকলেও সার্ভার সমস্যার কারণে রবিবার দুপুর পর্যন্ত আমদানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। এতে বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও রাসায়নিক পণ্য আমদানিতে বিঘ্ন ঘটে।’’
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন, ‘‘টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যজট তৈরি হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ায় এবং প্রায় দুই হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক কাজে যোগ দেওয়ায় পণ্যজট কমানোর কাজ চলছে। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ শামছুর রহমানও সার্ভার জটিলতাকে বাণিজ্য কার্যক্রমের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। শনিবার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল কম। রবিবার দুপুরের পর অনলাইনে কাজ শুরু হলে কার্যক্রম বাড়তে থাকে।’’
সার্ভার সচল রাখা এবং পণ্য খালাস ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যাতে বারবার বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সার্ভার জটিলতার কারণে শনিবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কিছু পচনশীল পণ্য খালাস করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









