ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়া নয়, দলের জন্য পদক জেতাই ছিল বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেই সন্তুষ্ট এই স্প্রিন্টার।
কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় পুরুষদের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ২১.১৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট। তবে এই সাফল্যেই থেমে থাকতে চান না তিনি। সামনে আরও ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জন করতে চান ইমরানুর।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি জানান, ১০০ ও ২০০ মিটারের প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও উন্নতি করতে চান। তার বিশ্বাস, নিয়মিত ও ধারাবাহিক অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে পারফরম্যান্সে আরও অগ্রগতি সম্ভব।
২০০ মিটারে সোনা জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইমরানুর বলেন, দল ও বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে তিনি দারুণ সমর্থন পেয়েছেন। তাঁর অ্যাথলেটিকস-যাত্রায় যারা পাশে রয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ইমরানুরের কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জন্য পদক নিশ্চিত করাই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, কোনো রেকর্ড ভাঙার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ট্র্যাকে নামেননি; বরং দৌড় শেষ করে দলের জন্য পদক জিততে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স জাতীয় রেকর্ডের কাছাকাছি। যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে ভবিষ্যতে সেই রেকর্ডও ভাঙা সম্ভব।
এখন বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ গেমস)। ইমরানুরের মতে, জানুয়ারিতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি এবং এপ্রিলে এসএ গেমসকে সামনে রেখে পরিকল্পিত অনুশীলন জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি।
দেশের অ্যাথলেটিকসের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, স্পনসরদের সহযোগিতা এবং অ্যাথলেটদের জন্য কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ইমরানুর। তার মতে, বাংলাদেশে অনেক অ্যাথলেটকে চাকরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়। এতে খেলায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে প্রতিভার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, মানসম্মত কোচিং, চিকিৎসাসেবা এবং শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থাও প্রয়োজন বলে মনে করেন এই স্প্রিন্টার। বিদেশের অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক দেশে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা থাকায় অ্যাথলেটরা অনুশীলন এবং পারফরম্যান্সে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেন। বাংলাদেশেও এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ইমরানুর। তার ভাষ্য, ফেডারেশন ইতোমধ্যে প্রতিভা অন্বেষণের কাজ শুরু করেছে। এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত সহায়তার মাধ্যমে এসব প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা।
জাতীয় প্রতিযোগিতায় সোনা জয়ের পর ইমরানুরের লক্ষ্য এখন আরও বড়। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে ধারাবাহিক উন্নতি, দলের সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য ভালো ফল অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









