ঝিনাইদহের সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের শিকার ৪০ বছর বয়সী এক হিন্দু নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক। ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়েলফেয়ার এফোর্টসের (উই) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নেটওয়ার্কের মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ এনএম শাহজালাল।
সভায় ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, ২৩ অক্টোবর বিকেলে পরকীয়ার সন্দেহে ঝিনাইদহ শহরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আন্না, তার দুই মেয়ে আনি ও কনি, ছেলে এবং গ্রামের রশিদ তাদের বাড়িতে গিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এ সময় কাঁচি দিয়ে তার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন করা হয়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ছেলেও মারধরের শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। আইনি সহায়তা চেয়ে তিনি উইয়ের পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী শরিফা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি নেটওয়ার্কের সভায় আলোচনার পর তার পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শরিফা খাতুন বলেন, জেলায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়তে থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। উই ও জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে নির্যাতিত নারীসহ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। শনিবার হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









