শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা শহরের কাছাকাছি ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যায় নির্ধারণের উদ্যোগের পর এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার একই দাবিতে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের কোটাপাড়া সেতুসংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াত, নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা ও নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় নিতে হবে।
জানা যায়, ২০২১ সালে শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছরের অক্টোবরে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার আইন চূড়ান্ত অনুমোদন পায় এবং ১৩ নভেম্বর গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাখে। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ উপাচার্য ও জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ডামুড্যার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় একটি জমি পরিদর্শন করেন। এলাকাটি জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সদর, জাজিরা ও নড়িয়ার মাঝামাঝি ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে জেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করা সহজ হবে।
চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালান। শহর থেকে দূরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে তাঁদের জন্য টিউশনি করা ও দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হতে পারে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা থাকলে দেশি-বিদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের যাতায়াতও সহজ হবে।
মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, ডামুড্যায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে জেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তিনি ডামুড্যায় অবস্থিত আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজের উদাহরণ দিয়ে দাবি করেন, সেখানে ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য স্থান নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আন্দোলনকারী আব্দুর রব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুধু জমির প্রাপ্যতা বিবেচনা করলেই হবে না; যোগাযোগ, নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা ও নাগরিক সুবিধাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উচ্চশিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই জেলার সব এলাকার শিক্ষার্থীর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ করতে হবে। দাবি বিবেচনা করা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









