নাটোরের গুরুদাসপুরে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি এমপিওভুক্ত ও চারটি নন-এমপিওভুক্ত। উপজেলার ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য শতাংশ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের ডেকেছে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমপিওভুক্ত চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ থেকে ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। নন-এমপিওভুক্ত নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের ২৩ জন, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য এবং বিএম ইনস্টিটিউটের ১৫ জন, চাঁচকৈড় নাজিমউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন এবং দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন পরীক্ষার্থীরা সবাই ফেল করেছেন।
উপজেলায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৩৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০ জন। পাশের হার ৪১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সাধারণ বিভাগে উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ পাশের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আটজন। এছারাও নাজিরপুর ডিগ্রি কলেজ ও বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ একজন করে জিপিএ- ৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৭ জন। পাশের হার ৩২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
কারিগরি (বিএম) বিভাগে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৯ জন। ফেল করেছেন ২১৯ জন। এ বিভাগে পাশের হার ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ।
কারিগরি বিভাগে উপজেলার মধ্যে গুরুদাসপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন। এছারাও গুরুদাসপুর মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে জিপিএ- ৫ পেয়েছেন একজন।
গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, “পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার শূন্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর রেজাল্ট নম্বর ও অধ্যক্ষদের মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।”
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী বলেন, “গুরুদাসপুরসহ জেলায় ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার শূন্য। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি দিয়ে আগামী ৩ নভেম্বর ডাকা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফলাফল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









