পিরোজপুরের নেছারাবাদে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরদিন সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে টাঙানো হয়েছে কবরস্থানের সাইনবোর্ড। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লালন নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে জমিটি পারিবারিক কবরস্থানের দাবি করে ঘর ভাঙার কথা স্বীকার করেছেন তার ভাই মজনু।
সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত রাতে লালন বাড়িতে না থাকার সুযোগে রাসুল, মজনু, জসিমসহ কয়েকজন তার নির্মিত ঘর ভাঙচুর করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। ভাঙচুরের শব্দ শুনে লালনের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে, মা ও চাচি ঘর থেকে বের হলে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আতঙ্কে তারা ঘর থেকে বের হতে সাহস পাননি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান লালন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরদিন সকালে ওই জমিতে কবরস্থানের সাইনবোর্ড টাঙানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লালন জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের দাদার সম্পত্তি। এর ছয়জন ওয়ারিশ রয়েছেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে নুরুজ্জামান চৌধুরীরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে আদালতে মামলা করে তিনি জমিটি উদ্ধার করেন। মামলা পরিচালনার খরচে অন্য ওয়ারিশরা সহযোগিতা করেননি বলেও দাবি তার। মামলায় জয়ের পর জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করে রাজমিস্ত্রির কাজের মালামাল রাখতেন তিনি।
তার অভিযোগ, রাস্তার পাশে হওয়ায় জমিটির দাম বেড়ে যাওয়ার পর অন্য ওয়ারিশরা সেটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জোরপূর্বক ঘর ভেঙে সেখানে কবরস্থানের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। লালনের দাবি, দাদা-পরদাদার সম্পত্তি এখনো ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন হয়নি। প্রত্যেকের বাড়ির পাশে ব্যক্তিগত কবরস্থান রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে এখন পর্যন্ত কাউকে দাফন করা হয়নি। ভুলবশত জমিটি কবরস্থানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে লালনের ভাই মজনু বলেন, জমিটি তাদের ছয় ওয়ারিশের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। লালন জোর করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন এবং কারও কথা শোনেননি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। তারা দিনমজুর হওয়ায় দিনের বেলায় কাজের কারণে সময় পান না। তাই রাতে ঘরটি ভেঙে ফেলেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। কবরস্থানের জায়গা দখলমুক্ত করতেই তারা এ কাজ করেছেন বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, লালনের দাদা ওই স্থানে কবরস্থান রাখার বিষয়ে ওসিয়ত করে গেছেন। তিনি নিজেও কাগজপত্রে কবরস্থানের বিষয়টি উল্লেখ থাকতে দেখেছেন। তবে লালন কারও কথা শোনেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এর আগে একই ঘটনায় একটি মারামারির মামলাও হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









