পিরোজপুরের নেছারাবাদে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ কাঠের পুল স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন তিন শিক্ষার্থী। দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পুলটি সংস্কার হওয়ায় দেবীদাসকাঠি, গুয়ারেখা ও ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমেছে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের জন্য স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছেন তিন তরুণ।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রম ও সমাজসেবকদের আর্থিক সহযোগিতায় পুলটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলটি নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সংযোগপথ এটি। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পুলটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী স্থানে হওয়ায় দীর্ঘদিনেও পুলটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবসমাজ পুলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাওয়া হয় গুয়ারেখা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মো. মিজানুর রহমান মিজান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সঞ্জয় মন্ডলের কাছে। তাদের আর্থিক সহায়তা এবং যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে শেষ পর্যন্ত সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়।
এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় তিন তরুণ মো. লিমন শেখ, মো. জালিস মাহমুদ ও মো. সিয়াম শেখ। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তির পথ তৈরি হয়েছে তিন গ্রামের মানুষের।
উদ্যোক্তাদের একজন মো. সিয়াম শেখ পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, পুলটি দুটি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও শিক্ষার্থী এ পথ দিয়ে চলাচল করেন। তাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই তারা স্বেচ্ছাশ্রমে পুলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় সমাজসেবক গাজী মো. মিজানুর রহমান ও সঞ্জয় মন্ডলের আর্থিক সহযোগিতায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

গুয়ারেখা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে যুবকদের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তারা যে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়। জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো কাজে পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মোয়াজ্জেম মো. ইউনুস শেখ বলেন, দীর্ঘদিন পুলটি জরাজীর্ণ থাকায় তাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হতো। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যুবকদের উদ্যোগে পুলটি সংস্কার হওয়ায় তারা আনন্দিত। এ কাজে অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতাকারীদের প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক জনদুর্ভোগ সহজেই লাঘব করা সম্ভব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









