সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে নেত্রকোনায় মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। তাদের দাবি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিট যৌথভাবে মানববন্ধনের আয়োজন করে। কর্মসূচি শেষে দাবিগুলো জানিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফ সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতেন। তাকে হত্যার পেছনে এসব প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখতে হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার দীর্ঘায়িত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। তাই তদন্ত দ্রুত শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে না যান, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের চেয়ারম্যান ও প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক খাইরুল আলম, সভাপতি আরিফুল ইসলাম, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মোহন মিয়া, সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম, সমকালের কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা এবং নিহত আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকিরসহ অন্যরা।
কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার, ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লিখতেন তিনি।
এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার সর্বশেষ অগ্রগতিতে গত রবিবার গ্রেপ্তার হওয়া ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন এবং মো. সাব্বির আহম্মেদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের জবানবন্দিতে তাজুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









