বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে ওঠার প্রচার চালিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন সজীব বেপারী। কথিত কবর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছিলেন উৎসুক মানুষ। অনেকে তার কাছে চিকিৎসাও নিতে আসছিলেন। প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে কবর দুটি নিজেই তৈরির কথা স্বীকার করেন সজীব। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে নিজ হাতে কবর দুটি ভেঙে ফেলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সজীব কবর দুটি নিজে তৈরির কথা স্বীকার করেন। তবে কী উদ্দেশ্যে এগুলো তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা লিখিত মুচলেকা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব প্রায় ছয় মাস ধরে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক মানুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসতেন।

২৬ অক্টোবর সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়, তাদের বসতঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে উঠেছে। সজীব দাবি করেন, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কবর দুটি দেখতে ভিড় করেন। বাড়তে থাকে তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে ঘটনাস্থলে যান তারা। সাধারণ মানুষ যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি কবর দুটি নিজে তৈরির কথা স্বীকার করেন। পরে নিজেই সেগুলো ভেঙে ফেলেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আর জড়াবেন না বলে তার ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









