তিনদিন পর ধূসর যবনিকা সরিয়ে উত্তর জনপদে অবশেষে দেখা দিল ‘সূর্যি মামা’। গত ৭২ ঘণ্টা ধরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল ঠাকুরগাঁও। হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে কুয়াশার চাদর সরিয়ে ঝলমলে রোদে ভাসল সীমান্তঘেঁষা এই জেলা।
বুধবার সকালে যখন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাপমাত্রার পারদ মাপছে, তখন কাঁটা থমকে ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ বাড়তেই ১১টা নাগাদ তা পৌঁছায় ১৬ ডিগ্রিতে। উত্তরের এই জনপদে রোদ ওঠা মানে শুধু তাপমাত্রার বৃদ্ধি নয়, এ যেন এক পশলা স্বস্তি।
অটোচালক নজরুল বলেন, সূর্যের মুখ দেখে প্রাণটা বাঁচল। আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের কাছে এই বৈরী আবহাওয়া অভিশাপের মতো।
শুধু নজরুল নন, রোদের দেখা মিলতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আদালত চত্বর থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের বারান্দায়।
তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সদর উপজেলার উত্তর হরিহরপুর গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী জানালেন তার উদ্বেগের কথা। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় আলুর খেতে ‘মড়ক’ ধরার উপক্রম হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলামও সেই আশঙ্কায় সিলমোহর দিলেন। তিনি জানান, ঘন কুয়াশা আলুর ক্ষতির কারণ হলেও, এই শীত গম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরের টিনের চাল আর গাছের পাতায় যখন সকালের কাঁচা রোদ ঝিকিমিকি করে উঠল, তখন চারদিকে চেনা কোলাহল। বাড়ির আঙিনায় কিংবা পাড়ার মোড়ে শিশু-কিশোরদের হই-হুল্লোড় জানান দিলো রোদ শুধু উত্তাপ নয়, উৎসবের মেজাজও বয়ে এনেছে। যদিও হাত-পায়ের আঙুলে এখনও সেই কনকনে ঠান্ডার কামড় বহাল, তবুও ঝলমলে আকাশ দেখেই খুশি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। মেঘলা দিনের ধূসর বিষাদ কাটিয়ে রোদ যেন এক চিলতে নতুন আশার ইশতেহার লিখে দিয়ে গেল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









