পোশাকশিল্পে কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার কারণে দেশে বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘‘বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। তাই কয়েকদিনের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ দুই পা পিছিয়ে যাবে বা এগিয়ে যাবে, এমনটি নয়।’’
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনো ধরনের অস্থিরতাই কাম্য নয়। কারণ, একটি অস্থিরতা নতুন আরেকটি অস্থিরতার জন্ম দেয়। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। ফলে সাম্প্রতিক কয়েকদিনের অস্থিরতায় বিনিয়োগের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।’’
এর আগে সকালে সিলেট নগরের একটি হোটেলে ‘সামাজিক সম্প্রীতি, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক ইমাম সম্মেলন ও ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রী।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘অর্থনীতির বিকাশের বড় অন্তরায় অস্থিতিশীলতা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা জরুরি।’’
শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘শ্রমিকদের অসন্তোষের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। ঘটনার পরপরই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক কারণের বাইরে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে অন্যকোনো কারণ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা খতিয়ে দেখবেন।’’ এ ধরনের অসন্তোষের কারণে অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থলবন্দরের বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশকেই উদ্যোগী হতে হবে।’’
এরপর দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশ আবারও ১৫ আগস্টের আগের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষ পেছনে ফিরে যেতে চায়নি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অবমূল্যায়ন করা হতো। প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও বন্যাপ্রবণতার কারণে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।’’
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে শিল্পোন্নত জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের বিজয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
আগামীর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জনসেবার মান বাড়াতে হবে।’’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমএ মালিক, এমরান আহমদ চৌধুরী ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









