যশোর জেলা পরিষদে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত, সরকারি গাছ বিক্রিতে অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে গত ছয় বছরের (২০১৮-২০২৪) প্রকল্পসংক্রান্ত বরাদ্দপত্র, রেকর্ডপত্র ও আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ যশোর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র চেয়ে একটি পত্র পাঠানো হয়। পত্রটি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপসহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বিশ্বাস।
দুদকের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা লুৎফর রহমান সরদার এবং অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক ও মহাসড়কের সরকারি হাজার হাজার গাছ বিক্রিতে অনিয়ম ও নয়ছয় করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আদায়, ভূমি ইজারা ও দোকান বরাদ্দের টাকা আত্মসাত এবং এসব অর্থ দিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদক ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং ২০০৭ সালের কমিশন বিধিমালার আলোকে বিভিন্ন নথি ও তথ্য চেয়েছে।
দুদক যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, যশোর জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমি, দোকান, ভবন ও মার্কেট বরাদ্দের নীতিমালা, সার্কুলার ও বিধি-বিধানের সত্যায়িত অনুলিপি। এছাড়া উপজেলাভিত্তিক জমি, দোকান, মার্কেট ও ভবনের অবস্থানসহ বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রও চাওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি জেলা পরিষদের একটি প্রাডো গাড়ি, যা ২০২৪ সালে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে, সেই বিক্রিসংক্রান্ত নথিপত্রও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের কল্যাণ তহবিল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা অর্থের বিস্তারিত হিসাব, সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র এবং ব্যাংক হিসাব বিবরণীও দিতে বলা হয়েছে। কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন থাকলে সেটিও জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া একই সময়ের মধ্যে চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং স্বরুপদাহ সরদারপাড়া ঈদগাহের জন্য নেওয়া সব প্রকল্পের তালিকা ও প্রকল্প নথি চাওয়া হয়েছে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে বরাদ্দপত্র, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাগজপত্র, পরিমাপ প্রতিবেদন এবং অর্থ ছাড়ের দলিল।
দুদকের অনুসন্ধানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদের বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও। এ প্রকল্পের প্রাক্কলন, বরাদ্দপত্র, টেন্ডার নথি এবং সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।
যশোর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. শাহীন বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দুদক থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে দুদকে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকেও ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









