সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমার স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে মন্দিরে এসে সেবায়েত ও ভক্তরা তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা কেন্দ্রীয় ‘মায়ের বাড়ি’ মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দির—এই চারটি মন্দিরের গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিমার স্বর্ণালংকার খুলে নেয় এবং দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’ আট আনা ওজনের একটি চেইন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা এবং দানবাক্সের প্রায় সাত হাজার টাকা।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, দুই দিন আগেই শহরের কাটিয়া মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা জানান, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
২৩০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় মন্দির কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









