দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বিয়ের আয়োজন চলাকালে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি নিয়ে অনশন করছেন এক যুবতী।
রবিবার (১০ মে) রাতে উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের সেনপাড়ায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার নরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে প্রদীপ রায়ের সঙ্গে রংপুর জেলার সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের প্রতিরামপুর পশ্চিমপাড়ার পুষ্প হেমন্তর মেয়ে দীপা রানীর দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়, যা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে তারা কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে আইনগতভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পাশাপাশি ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজ অনুসারেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন দীপা রানী। বিয়ের পর তারা প্রায় চার মাস সংসার জীবন কাটান।
অভিযোগ রয়েছে, সংসার চলাকালীন সময়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও বাবা-মায়ের পরামর্শে দীপা রানীর জন্য ইপিজেডে একটি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করতে শুরু করেন।
দীপা রানীর অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী প্রদীপ রায় কোনো খোঁজখবর নেননি। এরই মধ্যে তিনি জানতে পারেন, প্রদীপ রায় অন্যত্র নতুন করে বিয়ের আয়োজন করছেন।
এই খবর পেয়ে দীপা রানী নিজ এলাকায় ফিরে এসে প্রদীপ রায়ের বাড়িতে যান এবং নিজেকে ‘বৈধ স্ত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি ও অধিকার আদায়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রদীপ রায়ের বাড়িতে নতুন বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে দীপা রানী সেখানে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বৈধ স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। দাবি না মানায় তিনি বাড়ির উঠানে অনশনে বসেন।
দীপা রানী বলেন, “আমাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়েছে, আবার ধর্মীয় রীতিতেও বিয়ে হয়েছে। আমরা এক বছর সংসার করেছি। এখন আমাকে অস্বীকার করে অন্য বিয়ে করা হচ্ছে—আমি আমার স্বীকৃতি চাই।”
এ বিষয়ে প্রদীপ রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, প্রদীপ রায়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তারা বাড়ির দরজা খোলেননি।
ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর ধারণা, দ্রুত সমাধান না হলে বিষয়টি সামাজিকভাবে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









