কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষক ও সাত শিক্ষার্থী তাদের বিরুদ্ধে আনা “হত্যার হুমকি” ও “ভূমি দখল” সংক্রান্ত অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগকারী কর্মচারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।
রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগপত্র জমা দেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগকারী শিক্ষকরা হলেন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হায়াত এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান। এছাড়া অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী শিক্ষার্থীরা হলেন, বাংলা বিভাগের সাইফুল মালেক আকাশ ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ, আইন বিভাগের আজহারুল ইসলাম ইমরান, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের নাঈম হোসেন, ইংরেজি বিভাগের জহিরুল ইসলাম জয়, লোক প্রশাসন বিভাগের রাসেল এবং এআইএস বিভাগের সৌরভ কাব্য।
অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের কর্মচারী জাকিরুল ইসলাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এতে তারা সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, “হত্যার হুমকি” ও “ভূমি দখল” সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী হয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনার কারণে পরিবার ও সমাজে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী পারিবারিক ও মানসিক সমর্থন হারিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো, অভিযোগকারী কর্মচারী জাকিরুল ইসলামকে অনতিবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে এবং শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন করায় প্রশাসনকে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, “কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি ক্যাম্পাসের বাইরের হলেও শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়কেই আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের কর্মচারী জহিরুল ইসলাম প্রক্টর বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হায়াত ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তার জমি দখলের অভিযোগ তোলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









