সাতক্ষীরার উপকূলীয় জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষিকাজে বিঘ্ন এবং নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তেলের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) থেকে স্বাভাবিক নিয়মে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণ হওয়ার কথা থাকলেও রবিবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করছেন চালকেরা। সরবরাহ না থাকায় অনেক পাম্প বন্ধ রেখেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। কলারোয়ার বিপুল কুমার বলেন, ভোমরার আলিপুর চেকপোস্ট থেকে কলারোয়া কাজীরহাট পর্যন্ত আটটি পেট্রোল পাম্প ঘুরলাম। কোন পাম্পে তেল নেই। আসলেই কি তেল নেই নাকি সিন্ডিকেট করে রাখছে। আশাশুনি বাজারের মোটরসাইকেল চালক আমিনুর রহমান বলেন, আগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হতো। এখন তেল না পাওয়ায় গাড়ি চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। দিনে ২০০-৩০০ টাকার বেশি আয় হচ্ছে না। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব।
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চাল, ডাল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। সদরের বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, খুলনা থেকে মালামাল আনতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকছে না।
উপকূলীয় এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। বর্তমানে বোরো মৌসুম ও সবজি চাষে সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা। ডিজেলের সংকটে সময়মতো সেচ দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষক আশরাফুল বলেন, বাজারে ডিজেল ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। জমিতে সেচ দিতে দেরি হচ্ছে। এভাবে চললে ধান ও সবজি পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।”
পরিবহন সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরাও। আশাশুনি শ্যামনগর থেকে জেলা শহর সাতক্ষীরাগামী বাস ও ছোট যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। যাত্রী তৌহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে নিম্নবিত্তদের ওপর। পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়লে পণ্যমূল্য বাড়ে, যা দিনমজুর ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। স্থানীয় দিনমজুর মহিল উদ্দিনের কণ্ঠেও সেই হাহাকার, আগে যা আয় করতাম তা দিয়ে টেনেটুনে চলত, এখন বাজারে গেলেই পকেট খালি হয়ে যায়। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না হলে এই অঞ্চলের কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন পাম্পের কর্তৃপক্ষ জানান, সরবরাহ কম থাকায় গ্রাহকদের তেল দিতে পারছিনা, আবার গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন কিছু মানুষের দেওয়া সম্ভব কিন্তু সেটা যদি দিতে থাকি তাহলে অল্পসংখ্যক মানুষ পাবে আর বেশিরভাগ পাবেনা তখন উত্তেজিত জনতা আমাদের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে এজন্য একেবারে বন্ধ রেখেছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









