রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। তার মৃত্যুতে আহাজারি করছেন স্বজনরা।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটায় নিহত রিয়াদ রশিদের বন্ধু লিমন দত্ত ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে এ মৃত্যু সংবাদ জানান। লিমন দত্ত রাশিয়াতে রিয়াদের সাথে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরি করেন। তার দেশের বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
লিমন দত্ত জানান, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে গত ২ এপ্রিল। এ ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল তিনি রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারকে জানান।
রিয়াদ রশিদের চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ রিয়াদ রশিদ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি কোম্পানির চাকরি করতে রাশিয়াতে গমন করেন। গত এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রিয়াদ রশিদসহ আরও অনেক বাংলাদেশি যোগদান করেন। রিয়াদ রশিদের ব্যাচ নম্বর হচ্ছে ৭৩৫।
তিনি আরও জানান, রিয়াদ রশিদের সাথে পরিবারের শেষ কথা হয় ২৮ এপ্রিল। আর ম্যাসেঞ্জারে তাকে অনলাইনে দেখা গেছে ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত। রিয়াদ রশিদের লাশের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় কী করণীয় কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
রিয়াদ রশিদের বাবা জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনই যোগদান করতে দিতাম না। ছেলের লাশের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?
জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ রশিদ আমার স্নেহের ছোট ভাই। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সে ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব মোরশেদ বলেন, ‘পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









