পবিত্র ঈদুল ফিতরের একদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদ থেকে আবারো ৭ জন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এ ঘটনায় জেলে পল্লীতে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক।
অপহৃত জেলেরা হলেন— শাহপরীর দ্বীপের গোলারচরের মো. আবুল কালাম (৫০), মো. ছাদেক (৩০), আবদুর শুকুর (৪০), মো. রবি আমল (১১), মঞ্জুর আলম (২৭), মো. রাসেল (১৮) ও মো. শরিফ (১২)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে একটি নৌকায় থাকা ৪ মাঝিমাল্লা এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরেকটি নৌকার ৭ মাঝিমাল্লাকে নদের মোহনা এলাকা থেকে স্পিডবোট দিয়ে ধাওয়া করে তুলে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম জানান, আরাকান আর্মির কারণে নাফ নদ ও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই জেলেদের ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে জেলে ও নৌকার মালিকদের জীবিকায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, “আমাদের ঘাটের দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মাছ ধরতে গেলে স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি বিজিবি ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
এদিকে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তাদের ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে গত দেড় বছরে অন্তত ৫০০ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে দেশে ফেরেন।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ মাসে মোট ৪৪২ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে ৭৩ জনকে ফেরত দেওয়া হলেও এখনো ৩৪৫ জন জেলে তাদের হাতে বন্দি রয়েছেন। ফলে ঈদের আনন্দের বদলে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে শত শত পরিবারে চলছে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি ও কান্না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









