ঈদের ছুটিকে ঘিরে কুষ্টিয়ার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ঢল। পরিবার–পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন সবাই। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মানুষ এখন সময় কাটাতে ছুটছেন বিনোদন কেন্দ্রে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পার্ক, বাঁধ এলাকা আর গড়াই নদীর তীরে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। শহরের রেনউইক বাঁধ, পৌরসভা এলাকা, কামরুল ইসলাম শিশুপার্ক, জিয়া শিশু পার্ক আর রবীন্দ্র লালন উদ্যান—সবখানেই ঈদের পর থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু অবসর পেলেই পরিবার–পরিজনকে নিয়ে চলে আসছেন তারা। উপভোগ করছেন নদী আর শহরের উন্মুক্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর সবচেয়ে বেশি অংশ যেন শিশুদেরই। দোলনা, ট্রেন আর নানা ধরনের রাইডে চড়ে তারা মেতে উঠেছে হাসি আর উচ্ছ্বাসে। বাবা–মায়ের হাত ধরে নতুন নতুন জায়গা দেখছে, আর ঈদের আনন্দ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে তাদের চোখেমুখে।
বাবা-মার সাথে ঘুরতে আসা শিশু মাহমুদা খাতুন বলেন, রেনউইক বাঁধে বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছি। অনেক কিছু খেলাম আর দেখলাম। খুব ভালো লাগলো।
রেনউইক পার্কে জমে উঠেছে খাবারের দোকানগুলোও। পার্ক আর বাঁধের আশপাশ ঘিরে বসেছে ছোলামুড়ি, হালিম, চটপটি আর খেলনার দোকান। দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমজমাট বেচাকেনায় হাসি ফুটেছে ছোট ছোট এসব ব্যবসায়ীর মুখেও।
রেনউইক বাঁধে আসা খেলনা ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ বলেন, আমি সারা বছরই এখানে বিভিন্ন খেলনা বিক্রি করি। তবে ঈদের এই কয়েকদিন বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে শহরের পার্কের পাশাপাশি অনেকেই ভিড় করছেন গড়াই নদীর তীরেও। নৌকাভ্রমণে মেতে উঠছেন অনেকে, কেউ নদীর বাতাসে দাঁড়িয়ে কাটাচ্ছেন নির্জন কিছু মুহূর্ত। ঈদের ছুটিকে ঘিরে প্রিয়জনদের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটিয়ে তাই আনন্দটা যেন হয়ে উঠছে সবারই ভাগাভাগি।
নৌকা ভ্রমণকারী মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সারা বছর কাজকর্ম থাকায় বেড়ানো হয় না। তাই ঈদের সময় কোন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছি। সবাইকে নিয়ে গড়াই নদীতে নৌকা ভ্রমণ করলাম। খুব ভালো লেগেছে।
শহরের কামরুল ইসলাম শিশু পার্কে বেড়াতে আসা মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ বলেন, কুষ্টিয়া সাংস্কৃতিক রাজধানী হলেও এখানে বেড়ানো বা ভ্রমণের জন্য ভালো কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। শহীদ জিয়া শিশু পার্ক থাকলেও তা ভালো নেই। এই পার্কটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।
ঈদের ছুটি শেষ হলেও কুষ্টিয়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোর এই উচ্ছ্বাস হয়তো থেকে যাবে আরো কয়েকদিন। কাজের চাপে ক্লান্ত মানুষগুলোর জন্য এমন কিছু মুহূর্তই হয়ে উঠছে নতুন করে পথচলার অনুপ্রেরণা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









