বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা, আরএসও এবং আরকান আর্মির মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপে সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে সীমান্তের এপারে বারবার মর্টার শেলের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। আতঙ্কে স্থানীয় গ্রামবাসী, রাখাল ও কাঠুরিয়ারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কাঠুরিয়া সৈয়দ কাশেম ও রোহিঙ্গা করিম বক্স জানান, প্রতিদিনের মতো তারা সীমান্তের ৩৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় বাঁশ কাটতে যান। কাজের এক পর্যায়ে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ভারী অস্ত্রের গর্জন এবং পরপর মর্টার শেলের বিস্ফোরণ, যা পুরো এলাকাকে কাঁপিয়ে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘুমধুমের তুইঙ্গাঝিরি বিওপি সংলগ্ন মিয়ানমার অংশে প্রথমে গোলাগুলি শুরু হয়, পরে তা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করেন তারা।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে আরসা ও আরএসওর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে উভয় পক্ষ। পরিস্থিতিতে আরকান আর্মির সম্পৃক্ততা নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আরএসও আরকান আর্মির দিকে ঝুঁকে পড়ায় আরসার সঙ্গে তাদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এক পর্যায়ে এই বিরোধ সরাসরি সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের মতে, মর্টার শেল মূলত আরকান আর্মির কাছেই রয়েছে, অন্যদিকে আরসা ও আরএসও’র কাছেও একে-৪৭সহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তারা নিয়মিত সীমান্ত এলাকায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তুমব্রুর কোনারপাড়া, মধ্যপাড়া ও পশ্চিমপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন নিহত এবং ডজনাধিক আহত হন।
এ ঘটনায় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহলদল ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।
তুইঙ্গাঝিরি বিওপির কমান্ডার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তবে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









