বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ঈদের আনন্দ ছাপিয়ে শোকের মাতম

ঈদের ছুটিতে যশোরের সড়কে ঝরলো ৮ প্রাণ

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

ঈদের ছুটিতে যশোরের সড়কে ঝরলো ৮ প্রাণ

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন মানুষ কেউ আত্মীয় বাড়ি, কেউবা ঘুরতে। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা অনেকের জন্যই হয়ে উঠেছে চিরবিদায়ের পথ।

যশোর জেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিনের ছুটিতে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৮৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। ফাঁকা সড়ক, বেপরোয়া গতি এবং অসচেতনতার কারণে এই কয়েকদিনে জেলার সড়কগুলো যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয় এবং বাকি তিনজন বিভিন্ন উপজেলায় নিহত হন। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিকাংশ মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ১১৪ জন যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং আরও অন্তত ৭১ জন বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৩ জন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের বড় একটি অংশই মোটরসাইকেল আরোহী, যাদের অনেকেই ছিলেন তরুণ এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই সড়কে নেমেছিলেন। ঈদের ছুটিতে জরুরি বিভাগে আহতদের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে দ্রুত সেবা দিতে হয়েছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট এলাকায়। নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি প্রাইভেটকার গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একই পরিবারের তিনজন আব্দুল মজিদ সরদার (৭৫), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জনির চার বছরের কন্যা শেহেরিশ প্রাণ হারান। আহত হন পরিবারের আরও তিন সদস্য, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

এছাড়া ২১ মার্চ দয়ারামপুর এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মামুন হোসেন (২৫) নিহত হন। একই দিন খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে তেলের লরির ধাক্কায় এক সাইকেল আরোহী মারা যান। ২৩ মার্চ মণিরামপুরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হন। জেলার চৌগাছা, শার্শা, অভয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা।

জেলা পুলিশের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। অধিকাংশ চালকের মাথায় হেলমেট ছিল না এবং অনেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন ছিলেন। ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং রাতের বেলায় ক্লান্তি ও ঘুমভাব এসব কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চাপ ছিল অস্বাভাবিক। চিকিৎসকরা ছুটির মধ্যেও হাসপাতালে এসে জরুরি সেবা দিয়েছেন। অনেক রোগী গুরুতর অবস্থায় আসায় দ্রুত চিকিৎসা দিতে হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিনই ছিল আহতদের ভিড় এবং স্বজনদের আহাজারি।

যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কে নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হলেও শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে এই দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অনভিজ্ঞদের হাতে মোটরসাইকেল না দেওয়া, হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জেলা পুলিশ।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.