দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ চরমোনাই মাহফিলকে ঘিরে আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই দরবারে পৌঁছেছেন। তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে মাহফিল প্রাঙ্গণে উপস্থিত লাখো মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতূহল লক্ষ্য করা গেছে।
মাহফিল সূত্রে জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই এনসিপির প্রতিনিধিদল চরমোনাই পীর ও আমীরুল মুজাহিদীন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের বয়ানে অংশগ্রহণ করেন। তার বয়ানে ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশ-জাতির কল্যাণে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে বয়ানটি মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বয়ান শেষে পীর সাহেবের সঙ্গে এনসিপি প্রতিনিধিদলের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ঘরোয়া মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সময় দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং জনসম্পৃক্ত নৈতিক রাজনীতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ, ছাত্রনেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা যোবায়ের হোসেনসহ আরও অনেকে।
চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, এনসিপির প্রতিনিধিদল সারাদিন দরবার প্রাঙ্গণে অবস্থান করবে এবং মাহফিলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।
তিনি আরও জানান, বাদ জোহর অনুষ্ঠিতব্য প্রধান মঞ্চে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বক্তব্য রাখবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। তার বক্তব্যকে ঘিরে ইতোমধ্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, চরমোনাই মাহফিলকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দিনব্যাপী দোয়া, জিকির, বয়ান এবং ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন আগতরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় এই বৃহৎ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণ একদিকে যেমন জনসম্পৃক্ততা বাড়ায়, অন্যদিকে সমাজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রও তৈরি করে। ফলে চরমোনাই মাহফিল শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









