জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর গামী পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচলের বাইপাস সড়ক হিসেবে পরিচিত মহেশপুর পৌর এলাকার পাতিবিলা গ্রামের সড়কটি। প্রতিদিন শতশত ভারী যানবাহনসহ পথচারীরা চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে পাতিবিলা খালের উপর নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন, স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তা।
এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় পাতিবিলা গ্রামবাসীকে। চড়কতলা মোড়ের সাপ্তাহিক হাটে আসা যাওয়া করতে হয় ১কি. মি. রাস্তা ঘুড়ে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ব্রিজ মেরামতের চেষ্টায় বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও কোন লাভ না হওয়ায় অবশেষে ভাঙা ব্রিজের স্থানে মাটি ভরাট করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলেন।
এতে খালের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এভাবে চললেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পাতিবিলা, বগা, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষকদের কপালে ফেলেছে চিন্তার ভাঁজ। যতই বর্ষা এগিয়ে আসছে ততই চিন্তা বেড়ে যাচ্ছে কৃষকদের। ভাঙা ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় প্রায় ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে যাবে বলে জানান কৃষকরা।
স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত যদি ব্রিজটি নতুন ভাবে তৈরি বা সংস্কার করা না হয় তাহলে এই এলাকার প্রায় ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাবে। কারণ পানি নিষ্কাশনের এক মাত্র জায়গা হচ্ছে এই খাল, বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে এলাকার সব পানি কপোতাক্ষ নদীতে নামে। ব্রিজ ভেঙে নিচে পরে যাওয়ায় খালের মুখও বন্ধ হয়ে গেছে।
কৃষক আরশেদ আলী বলেন, চেচোগাড়ি ও গোবড়ার বিলের পানি খাল দিয়ে নামে। ব্রিজ ভেঙে খালের মুখ বন্ধ থাকায় আমরা চিন্তায় আছি। বর্ষার আগে ব্রিজটি তৈরি না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে, জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি পানির নিচে থাকবে।
স্থানীয় কৃষক হজোমোল্লা বলেন, জমি গুলো বিল এলাকায় হওয়ায় আমাদের যতচিন্তা। উঁচু স্থানের সব পানি বিল দিয়ে নামে আর এই বিলের জমিতে আমাদের চাষাবাদ। খাল দিয়ে যদি পানি বের হতে না পারে তাহলে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হবে।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর হাসেম আলী পাঠান বলেন, খালের মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় ব্রিজটা আসলেই চিন্তার কারণ, এই মাঠে আমাদেরও ফসলি জমি আছে। বর্ষার আগে কোন ব্যবস্থা করা না হলে যানবাহন চলচলা দুর্ভোগে পড়বে, ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমিও বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেছি যাতে বর্ষার আগেই ব্রিজটার কোন ব্যবস্থা করা যায় কিন্তু এর সম্ভাবনা দেখছি না।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহরিয়ার আকাশ বলেন, এটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তা। আমরা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারি না। ব্রিজটা এমনভাবে ভেঙেছে যা নতুন ভাবে তৈরি করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। ব্রিজ নির্মাণের প্রাথমিক তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমাকে অবগত করলেন সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









