কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানকে খেলাধুলা শেষে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়াকাটা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সামিয়া হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্কুল বন্ধ থাকায় সামিয়া সকালে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। খেলাধুলা শেষে শরীর জুড়াতে সে কালালিয়াকাটা মাদ্রাসাসংলগ্ন একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। এসময় পুকুরের গভীর পানিতে সে হঠাৎ তলিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর সামিয়াকে দ্রুত মহেশখালী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের মতে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পানিতে দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে, সামিয়ার এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে কালালিয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান। একটি ফুটফুটে প্রাণের এমন করুণ বিদায়ে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
সামিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। বিশেষ করে জলাশয়ের আশেপাশে শিশুদের চলাচলে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এর আগে গত ১ এপ্রিল বুধবার দুপুরে মহেশখালী মাতারবাড়ির উত্তর রাজঘাটের ২ বছরের আরিয়ান নামের এক ছেলে উঠানে খেলতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় তার মা ঘরের ভেতর গৃহস্থালি কাজ করছিল। কিছুদিন পর ছেলে খুঁজতে গিয়ে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। অপর দিকে একই দিন চকোরিয়ার চিরিংগা উইনিয়নের সওদাগরঘোনার চারাবটতলীতে বেলা ১১ টায় বকেয়ামনি (৭) ও চিরিংগা সওদাগর ঘোনার হুফাইজা পুকুরে খেলতে গিয়ে দুইবোন পানিতে তলিয়ে যায়।সম্পর্কে তারা মামাতো ফুফাতো বোন।বকেয়ামনি ঈদের পর নানার বাড়ি বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









