দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকারী জেলা কক্সবাজারে ঝড়বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে লবণ উৎপাদন, পানবরজ,দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া পেকুয়া উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর রামু ও ঈদগাঁওতে। ক্ষেতের ফসল ও গাছপালা উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মেঘলা আকাশ,কখনো বৃষ্টি, কখনো রোদ ও কখনো মেঘের গর্জন এবং ভ্যাপসা গরমে জীবন অতিষ্ঠ হ'য়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আগামী কাল শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হয়ে পড়েছে লবণ উৎপাদন। সেই সঙ্গে চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাদের হতাশার কথাও বলছেন। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ব্যাপক কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে বিসিক। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭২ হাজার টন। এদিকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু এলাকায় লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের সময়। এ বছর যথাসময়ে লবণ উৎপাদনের মৌসুম শুরু হলেও গত কয়েকদিন থেকে কক্সবাজার এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। মঙ্গল ও বুধবার রাতে কক্সবাজারের ওপর দিয়ে হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলে। এতে বন্ধ হয়ে যায় লবণ উৎপাদন।
পেকুয়ার মগনামা এলাকার লবণচাষি দিদারুল আলম করিম,নাজির হোসেন, পিয়ারুল ইসলাম ভূইয়া, তানিম হোসেইন
বলেন, লবণের মূল্য পাচ্ছি না। তবুও উৎপাদন করতেই হচ্ছে। তার ওপর কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। জানি না, কবে আবার লবণ মাঠে নামতে পারব। কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমার ছাড়া এলাকার লবণচাষি মনিরুল ইসলাম,বদিউল আলম,জাফর আলম, কমর উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ কালবৈশাখী শুরু হয়। রাতের বেলা হওয়ার কারণে তেমন একটা লবণের ক্ষতি হয়নি। পরদিন আর কোনো লবণ উৎপাদন হয়নি।
কুতুবদিয়ার লেমশিখালি এলাকার বর্গাচাষি কামাল হোসেন বলেন, আমাদের এখানে লবণের মূল্য ২২০ টাকা। উৎপাদন খরচ ওঠানোই কঠিন। সেখানে আবার কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
মহেশখালীর ধলঘাটা এলাকার লবণচাষি মনজুর আলম,আবদুল কাদের বলেন, মঙ্গল-বুধবার দুইদিনই রাতে কালবৈশাখী ও ঝড়োবৃষ্টি বয়ে গেছে। উৎপাদন বন্ধ, কিন্তু মাঠে কাজ করার যে লোক আছে, তাদের খাবার বন্ধ নেই। টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু লবণ উঠছে না।
বিসিকের লবণ প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু অংশ মিলে ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজার ৩৫৫ চাষি লবণ চাষে নিয়োজিত রয়েছেন।
৬ এপ্রিল পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭২ হাজার টন। এখন পর্যন্ত পুরনো আর নতুন মিলে মজুদ রয়েছে ১২ লাখ ৩০ হাজার টন। চলতি বছর দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী একমাস লবণ উৎপাদন করতে পারবে চাষীরা। এ সময় যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তা হলে ও টার্গেট অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ শুরু থেকে লবণের দাম নিম্নমুখী থাকায় চাষীদের মধ্যে তেমন আগ্রহ ছিলনা লবণ উৎপাদনে। তাছাড়া জমির খাজনা ছিল অতিরিক্ত, লেবারের মজুরি বেড়েছে, বেড়েছে, জালানী তেলের মূল্য, লবণ মাঠের পলিথিনের চড়ামূল্যে সব মিলিয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে নিরুৎসাহিত চাষীরা অন্তত একমাস দেরিতে লবণ উৎপাদনে মাঠে নামে। ফলে লবণ উৎপাদন নানা ভাবে ব্যাহত হয়। কম লবণ উৎপাদন হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও ইকোনেমিক জোনসহ সরকারী বেসরকারী নানা স্থাপনা নৌঘাটি এবং অবকাঠামো নির্মাণ কাজ হচ্ছে লবণ মাঠের জমির উপর।সব মিলিয়ে উপকূলীয় এলাকার অন্তত ১৫ হাজার একর লবণ উৎপাদনের জমি হাত ছাড়া হওয়ায় বিভিন্ন ভাবে লবণ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ে।যে কারণে লবণ উৎপাদনে টার্গেট অতিক্রম করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখনো মাঠে ঠিকে আছে চাষীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









