নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, একটি যানজট ও হকারমুক্ত আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি নগরবাসীসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী মহলসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জকে একটি সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। বিশেষ করে যানজট নিরসন ও হকার সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ দুটি বড় সমস্যা সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় নগরীর প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড, মীর জুমলা সড়ক, কালীরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকায় ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা বিকল্প স্থানে ব্যবসা করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে যে হকাররা বসে আছেন, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দা। অনেকেই আত্মীয়স্বজনকে এনে সড়ক দখল করে রেখেছেন, ফলে পুরো শহরই হকারদের দখলে চলে গেছে। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। তিনি বলেন, যানজট ও হকারমুক্ত নগরী গড়তে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
যানজট নিয়ন্ত্রণে অটোরিকশা ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অটোরিকশাকে ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও বারকোডের আওতায় আনা হবে, যাতে চালকদের সহজে শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি শহরের বাইরের অটোরিকশা শহরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অতীতে লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









