পুকুর পাড়ে, নদীর পাড়ে, এমনকি ঘরের পাশে চোখ পড়তেই বেতবন। আধুনিক নগারয়ন ফলে উজার করা হচ্ছে বেতবন। ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে এখন বিলুপ্ত প্রায় বেতবন। কমেছে বেতের তৈরি জিনিসের ব্যবহার। আশার বাণী হচ্ছে- বেতের তৈরি দ্রব্য এখন সৌখিন মানুষ আসবপত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
জানা যায়, এক সময় উপজেলা জুড়ে প্রচুর বেতবন ছিল, পুকুর পাড়ে, খাল নদীর পাড়ে, ঘরের পাশে চোখে পড়ার মতো বেতবন ছিল এবং বেতের তৈরি চেয়ার, টেবিল, বই রাখার তাক, সোফা, দোলনা, মোড়া, ডালা, চাটাই, লাই, কুলা, চাঙারি, মুড়া, হাতপাখা, চালন, গোলা, ডোল, ধামা, পাতি, খাট, ঝুড়ি, মাটি কাটার পেরউঙ্গা ইত্যাদি জিনিস ও আসবাবপত্রের যথেষ্ট কদর ছিল।
ঘরবাড়ি নির্মাণ, মৎস্য শিকার সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতিসহ বাহারি রঙের গৃহস্থালি আসবাব তৈরিতে বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হতো। গ্রামীণ হাটবাজারে দেখা যেত বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিস।
কুটির শিল্পের কারিগররা বেত সংগ্রহ অথবা হাটবাজার থেকে কিনে বাঁশ বেতের নানা জিনিস তৈরি করে হাটবাজা, দোকান অথবা পাড়ায় পাড়ায় হাঁক-ডাক করে বিক্রি করত।
আধুনিক নগারয়ন, সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে বেতবন। ফলে বেতের তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার কমেছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক, সিরামিক, সিলভার, এস এসসহ বিভিন্ন প্লাইবোর্ডের আধিপত্যের কারণে বেত-বাঁশের তৈরি জিনিস কদর কমছে।
বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাব এখন চড়া দামে বিক্রি হয়। সৌখিন মানুষ এগুলো ব্যবহার করছে।
শিক্ষক বটন কুমার দে জানান, বাঁশ বেতের জিনিসের ব্যবহার কমলেও এখন বিলাসিতা আর সৌখিনতায় ব্যবহার করেন অনেকে।
এদিকে বেতবন বা বেতের তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার এখন রুপকথার গল্পে পরিণত হয়েছে। এ পেশা ছেড়েছে অধিকাংশ কারিগর। এখনো যারা বাপ-দাদার এ পেশা আগলে আছেন তারা অভাব-অনটনে দিনযাপন করছেন।
নাজিরহাট এলাকার ফরিদা আকতার বলেন, এক সময়ে বাঁশ-বেত দিয়ে প্রচুর জিনিস তৈরি করতাম। ঘরের পুরুষরা বাজারে বিক্রি করত। অর্জিত অর্থ দিয়ে আমাদের সংসার চলত। এখন বেতও পাওয়া যায় না। বেতের তৈরি জিনিসপত্রও মানুষ নিতে চায় না।
ব্যবসায়ী আব্দুল মাবুদ জানান, আগের মতো বেচা-বিক্রি হয় না বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসপত্রের। পুরনো ব্যবসা হিসেবে অন্য ব্যবসার সঙ্গে এখনো রেখেছি।
ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে এখনো দেখতে পাওয়া যায় বেতবনের। সরেজমিন হারুয়ালছড়ি অভায়ারণ্যেও প্রচুর বেতবন দেখা যায়। সচেতন মহল মনে করেন সরকারি-বেসরকারি উদ্যেগে এখনো সম্ভব বেতবন ও এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা।
কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন



সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









