সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কিস্তির ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে এনজিও‘র করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানামুলে গ্রেফতার হন মোছা. জান্নাতি খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধু। আর শুক্রবার সকালে গ্রেফতারের পর তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠান পুলিশ। এরপর বিজ্ঞ আদালত ওই গৃহবধুকে জামিন দেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার নিজ বাড়ী থেকে ওই নারীকে গ্রেফতার করেছেলেন তাড়াশ থানা পুলিশ। জান্নাতি খাতুন ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।
এ দিকে শুক্রবার (১ মে) সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক ওবায়দুল হক রুমি তাকে জামিনের আদেশ দেন।
সিরাজগঞ্জ সদর কোর্ট পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এনআই অ্যাক্টের মামলায় জান্নাতি নামের গৃহবধূকে তাড়াশ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে সকালে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বছর খানেক আগে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের এনজিওতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার পদে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি চাকুরীর শর্ত মোতাবেক ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। পাশাপাশি আব্দুর রাজ্জাক ওই শাখা থেকে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণও গ্রহন করেন। এরপর আব্দুর রাজ্জাক ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের এনজিও‘র চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন।
এ দিকে আব্দুর রাজ্জাক দাবী করেন, ওই এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার টাকা কয়েক কিস্তিতে পরিশোধ করেছি। পাশাপাশি চাকুরীকালীন সময়ে আমার জামানত রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা স্ত্রীর ঋণের সাথে সম্মনয় করতে শাখা ব্যব্স্থাপককে অনুবোধ করি। কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ জামানত রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা আমার স্ত্রীর ঋণের সাথে সম্মনয় না করে আমার স্ত্রী জান্নাতির নামে আদালতে মামলা করেন।
অবশেষে সেই মামলায় জান্নাতি জামিন পেলেন।
এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রফিক জানান, জামিন পাওয়ার পর জান্নাতি দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









