চরফ্যাশনের দুলার হাট থানা সদরে অবস্থিত দুলারহাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক ছাত্রী ঝুঁকিপূর্ণ পুরানো টিনশেড ভবনে ক্লাস করছে। বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্কুল ভবন পায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বসার কক্ষ ও ছাত্রীদের শ্রেণী কক্ষের দুটি ঘরের পিছনের অংশের মেঝে ভেঙে পুকুরের সাথে প্রায় মিশে গেছে। এতে যেকোনো সময় ঘর দুইটি ধসে গিয়ে পুকুরের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসী জানায়, বালিকা বিদ্যালয়টি দুলারহাট থানা সদরে হওয়ায় সহজ যাতায়াতের জন্য চরফ্যাশনের পশ্চিমাঞ্চলের ছাত্রীদের কাছে বিদ্যালয়টি বেশ পছন্দনীয় হয়ে উঠে। পড়ালেখার মান ভালো হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ছাত্রী ভর্তি হয়। যথাযথ শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারণে একই শ্রেণী কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়।
প্রধান শিক্ষক রোকছানা বেগম বলেন, ‘‘চরফ্যাশনের পশ্চিমাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে পড়াশোনার মান ভালো হওয়ায় অভিভাবক ও ছাত্রীদের কাছে এই বিদ্যালয়টি বেশ পছন্দ ও আগ্রহের। আমরা ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো বসতে দিতে পারি না।’’
বিদ্যালয়ের টিনশেড কক্ষে বৃষ্টির দিনে ক্লাস চালানো প্রায় অসম্ভব। গ্রীষ্মে ঘরের ভেতরে তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা দরকার বলেও প্রধান শিক্ষিকা জানান।
অভিভাবকরা জানান, দুলার হাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এই অঞ্চলে শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি। অথচ প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩০ বছরেও স্থায়ী ভবন পায়নি বিদ্যালয়টি, নেই ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বেষ্টনীর ব্যবস্থা। আমরা অভিভাবকরা ভীষণ উদ্বিগ্ন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
চরফ্যাশন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, ‘‘যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও মেরামত প্রয়োজন সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও উক্ত বিদ্যালয়টিসহ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









