বরিশাল নগর ভবন এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৪১ বছরের পুরোনো এই ভবনের ছাদ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিভিন্ন দেয়াল ও কলামে দেখা দিয়েছে গভীর ফাটল। এতে ভবনের ভেতরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
সম্প্রতি নগরভবনের ভেতরে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরতরা অল্পের জন্য রক্ষা পান। এর আগে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের ছাদের অংশ ধসে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন অংশে ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং অনেক দরজা-জানালা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ভবনের বর্তমান অবস্থা এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কর্মচারী মো. সোহাগ বলেন, “মাথার ওপর ছাদ কখন ধসে পড়বে বলা যায় না। এমন ভবনে প্রতিদিন কাজ করা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।”
জানা গেছে, ভবনটির কোনো নির্ভরযোগ্য কাঠামোগত নকশা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ কলামগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে, যা পুরো ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রায় ৪৫০ জনের ধারণক্ষমতার এই ভবনে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত সেবাগ্রহীতাও এখানে আসেন।
মূলত দুইতলা ভবন হিসেবে নির্মিত এই স্থাপনাটি পরবর্তীতে নকশা ছাড়াই তিনতলায় উন্নীত করা হয়। অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ভবনটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৮৫ সালে ভবনটি পৌরভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর কার্যক্রম ও জনবল কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। পুরোনো ভবনেই অতিরিক্ত কক্ষ তৈরি করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে ভবনটিতে প্রায় ৭০টি কক্ষ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, নতুন নগর ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ শাখাগুলো দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত নিরাপদ ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রতিদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা জীবননাশের আশঙ্কা তৈরি করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









