পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় রিফাত গাজী (১৭) নামে এক তরুণকে বাড়ির পাশের গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরমার্গারেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দুপুরে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ভাত খেয়ে নানা বাড়ির দোতলায় ঘুমাতে যান রিফাত। বুধবার সকালে সিঁড়ির নিচে তার জুতা দেখে স্বজনরা ধারণা করেন, তিনি ঘুমাচ্ছেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সংলগ্ন একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
স্বজনদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। মুখমণ্ডল তিনটি ভিন্ন রঙের ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিল এবং গলায়ও একটি ওড়না পেঁচানো ছিল, যেটি দিয়ে ফাঁস দেওয়া। মাটিতে পড়ে ছিল তার ব্যবহৃত জিন্সের প্যান্ট।
রিফাতের বাবা লিটন গাজী বলেন, “মঙ্গলবার রাতে স্বাভাবিকভাবেই খেয়ে ঘুমিয়েছে। সকালে দেখি মেয়েদের পোশাক পরা অবস্থায় লাশ। গায়ে তখন কামিজ ছিল, সেটা খুলে ফেলা হয়। পরনে সেলোয়ার ছিল। নাকে-মুখে তিনটি ওড়না দিয়ে গিট দেওয়া ছিল। আরেকটা ওড়না দিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আমার বা ছেলের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কীভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না। দেখা যায় আত্মহত্যা, কিন্তু পরনে যে মেয়েদের পোশাক-সেখানেই সন্দেহ।”
নিহতের নানা হোসেন মাল বলেন, “রাতে কোনো অস্বাভাবিক কিছু বুঝিনি। সকালে এমন ঘটনা দেখবো ভাবিনি।”
নিহতের নানী সাফিয়া বেগম বলেন, “ও আমাদের সঙ্গেই থাকতো। হঠাৎ কী এমন হলো, আল্লাহই জানে।”
তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ বেলাল হোসাইন বলেন, “মুখমণ্ডলের সঙ্গে তিনটি ওড়না এবং গলায় পেঁচানো একটি ওড়না পাওয়া গেছে। মাটিতে তার জিন্সের প্যান্ট পড়ে ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









