বরিশাল বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগজুড়ে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। শনিবার (৯ মে) সকালে হাসপাতাল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাদারা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্বাসের (১০) মাস বয়সী ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহকে গত ৫ মে হামের উপসর্গ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে পটুয়াখালীর পাগলা এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াসের সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু আয়শাকে গত ১ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, হাম থেকে সৃষ্ট জটিল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৬৯ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৭০ জন রোগী।
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে ১০৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১১১ জন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে ১৩৩ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। বিশেষ করে টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালগুলোতে বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং জনসচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
তবে প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বরিশাল বিভাগজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









