বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে ছয় নারীসহ আটজনকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন ও র্যাব-৮। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অংশ নেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব-৮ এর সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে হাসপাতাল এলাকায় ঘোরাফেরা করে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগে দালাল চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র হাসপাতালের অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। চিকিৎসার দ্রুত ব্যবস্থা, ভালো ডাক্তার দেখানো কিংবা পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তারা রোগীদের হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেত। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রোগীদের হয়রানি, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ দালালি করার অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করেন।
বরিশাল র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় হাসপাতাল এলাকায় দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে হাসপাতাল এলাকায় অভিযান পরিচালনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের প্রবেশপথ, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের আশপাশে দালালদের উৎপাত ছিল প্রকাশ্য। অনেক রোগী না বুঝেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা দালাল চক্র পুরোপুরি নির্মূলে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









