রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

কাপাসিয়া পাঁচ হত্যাকাণ্ড

হত্যার পর পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন ফোরকান

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

আপডেট: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

হত্যার পর পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন ফোরকান

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার আলোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. ফোরকান মোল্লা (৪০) হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন এ তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ মে মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, এক ট্রাক হেলপার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থান থেকে মোবাইলটি কুড়িয়ে পান।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ওই ব্যক্তি ছিলেন ফোরকান মোল্লা।

পুলিশের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে একই জেলার পাইককান্দি গ্রামের শাহাদৎ মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তারের (৩৫) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে জন্ম নেয় তিন কন্যাসন্তান-মীম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)। দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে কলহ লেগে থাকত।

প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন প্রাইভেটকার চালক।

গত ৮ মে রাতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তিনি তার শ্যালক রাসূল মোল্লাকে (২২) গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর রাত ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ  মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে ১০ মে কাপাসিয়া থানায় ৩২৮/৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. যোবায়েরের ওপর।

ঘটনার পর গাজীপুর জেলা পুলিশ, কাপাসিয়া থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। নিহত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

র/কা/সা

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.