পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। দেশীয় ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের হাজারো গরু, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির বাজারের জন্য। তবে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব দিয়ে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি ও শস্যজাতীয় খাবারের মাধ্যমে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এতে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দাবি খামারিদের।
এসব খামারে দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহীওয়াল, গীর, হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান ও আমেরিকান ডেক্সটার জাতের গরুও রয়েছে, যা ইতোমধ্যে খামার থেকে সরাসরি ও অনলাইনে পশু বিক্রি শুরু হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
উপজেলার সওদাগর ক্যাটেল ফার্ম-এর স্বত্বাধিকারী শাকিল সওদাগর বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। গো-খাদ্য, শ্রমিক, বিদ্যুৎ, পরিবহন সবকিছুর দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা, হাটে ন্যায্য দাম পাবো কি না।
খামারিদের আশঙ্কা, ঈদের আগে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পশু সরবরাহ এবং ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস বলেন, এ বছর চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো খামারে যেন স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না হয়, সেজন্য আমাদের ভেটেরিনারি টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে সবুজ ঘাসের সংকট ও গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। সবকিছু শেষ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ ও দেশীয় পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ঈদ বাজারে স্বস্তি ফিরবে স্থানীয় খামার খাতে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









