কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপ নগরের দরবার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৫৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে এক কিশোর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় ওই শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
নিহত কিশোরের নাম লাম (১৪)। সে স্থানীয় ২০২৫ সালে পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। লাম ফিলিপনগর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগে ফিলিপনগরে আব্দুর রহমান শামিমের দরবারে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি শামিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় লামের বড় ভাই আলিফ ইসলামকে (২৩) পুলিশ গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। ঘটনার পর থেকে তারা দুই ভাই পলাতক ছিলেন।
পরিবারের দাবি, বড় ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ছোট ভাই লাম চরম মানসিক দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে ভুগছিল। ঘটনার দিন সে কৌতূহলবশত ভিড়ের সঙ্গে ঘটনাস্থল। পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তারের ভয়ে তাকে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
নিহতের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার বড় ছেলে আলিফ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল না, তবু তাকে পুলিশ নিয়ে গেছে। ছোট ছেলে লাম ঘটনার দিন সবার সাথে দেখতে গিয়েছিল। ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ও সারাক্ষণ ভয়ে থাকত। সেই ভয় আর দুশ্চিন্তা থেকেই হয়তো ও নিজেকে শেষ করে দিল।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, লামের আত্মহত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ভিডিও ফুটেজে ভাঙচুরের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার আতঙ্কে কেউ আত্মহত্যা করলে পুলিশের কিছু করার থাকে না। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েই তার ভাইয়া আলিফকে গ্রেপ্তার করেছি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলার পরিকল্পনা অন্তত এক সপ্তাহ আগে করা হয়েছিল। একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে জনতাকে উসকে দেওয়া হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে ৩৫ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে যারা এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে।
এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে, তবে প্রকৃত দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
গত ১৩ এপ্রিল নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতিসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









