নাটক ও সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী আইনূন পুতুল। নন্দিত এই অভিনেত্রী এর আগে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘বৃহন্নলা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘ব্ল্যাক ওয়্যার’, ‘বিলডাকিনী’ ও ‘রাতজাগা ফুল’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন ছুঁয়েছিলেন। এবার কে. এম. হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) পরিচালিত ‘সাঁতাও’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’র পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম প্রকাশ করা হয়।
আইনূন পুতুল বলেন, ‘খবরটি শোনার পর থেকে সারারাত এমনভাবে পার হয়েছে যে, মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। আমার স্বামীকে বলছিলাম, হয়তো এটা জন্মদিনের শুভেচ্ছার মতো কিছু একটা, রাত বারোটার পর তা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু শেষমেষ আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছি এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সত্যিই আজ আব্বুর কথা ভীষণ ভীষণ মনে পড়ছে। আব্বু বেঁচে থাকলে তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশী হতেন। আমার মা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ, তিনি অন্তত আমার এই প্রাপ্তি দেখে যেতে পারলেন, এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই জুরি বোর্ডে যারা ছিলেন, তারা আমাকে যোগ্য মনে করেছেন বলেই আমাকে নির্বাচিত করেছেন। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই ‘সাঁতাও’ -এর পরিচালক খন্দকার সুমন ভাইসহ পুরো টিমকে। যাদের নিরলস শ্রম, চেষ্টায় আজ এই প্রাপ্তি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৪-০৫ সেশনে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আইনূন পুতুল নাটকেই এমফিল করে এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রে পিএইচডি করছেন। ২০০৬ সালে তিনি বাংলাভিশনে প্রচারিত ‘ঘাটের কথা’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। এতে তিনি ‘কুসুম’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আইনূন পুতুল ২০১২ সাল থেকে নাটকের দল ‘আরশী নগর’র সাথে সম্পৃক্ত। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। এই দলের হয়ে মঞ্চে বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। পুতুলের বাবা প্রয়াত এস এম আনোয়ারুল কবির ও মা নূরুন্নাহার কবির।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









