সুপারফ্যানদের জন্য বিশেষ ‘ফ্যানডেমোনিয়াম’ পুরস্কার থেকে শুরু করে একাধিক শহরে প্রদর্শনী—কে-পপের নতুন মহোৎসব ‘ফ্যানোমেনন’ ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কোরিয়ার জনপ্রিয় সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে আরো বড় করে তুলে ধরতেই আসছে এই ১১ দিনের আয়োজন।
কে-পপের ইতিহাসে বড় এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার চার শীর্ষ বিনোদন প্রতিষ্ঠান—হাইব, এসএম এন্টারটেইনমেন্ট, জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট ও ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্ট। তারা যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ফ্যানোমেনন’ নামের বিশাল সংগীত উৎসব। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এটিকে কোরিয়ার নিজস্ব ‘কোচেলা’ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সমর্থন পাওয়া ১১ দিনের এই উৎসব শুধু সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হ্যালিউ বা কোরিয়ান সংস্কৃতির ঢেউ উদ্যাপন করাই হবে এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রথম ‘ফ্যানোমেনন’ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ২ থেকে ১২ ডিসেম্বর, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে। মূল অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী হবে নতুন নির্মিত সিউল অ্যারেনায়। বর্তমানে চ্যাংদং এলাকায় অ্যারেনাটির নির্মাণকাজ চলছে।
তবে আয়োজনের পরিধি সিউলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গয়াংয়ের কিনটেক্স-এ থাকবে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও অতিরিক্ত আয়োজন। সেখানে গেমিং, ওয়েবটুন, সৌন্দর্যচর্চা, খাবারসহ কোরিয়ান সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরা হবে। ফলে এটি কার্যত একাধিক শহরজুড়ে বিস্তৃত উৎসবে পরিণত হবে।
‘ফ্যানোমেনন’-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি একই সঙ্গে সংগীত উৎসব ও পুরস্কার অনুষ্ঠান। তবে প্রচলিত পুরস্কার অনুষ্ঠানের মতো শুধু শিল্পীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হবে না। এবার পুরস্কারের কেন্দ্রেই থাকবে ভক্ত বা ফ্যানডম।
‘Fanomenon’ নামটি তৈরি হয়েছে ‘fan’ ও ‘phenomenon’—এই দুই শব্দ মিলিয়ে। এর মধ্য দিয়েই বোঝানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে হ্যালিউ সংস্কৃতির বিস্তারে ফ্যানদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শিল্পীরা তাঁদের ভক্তদের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি একটি বিশেষ কমিটি ১০টি নির্বাচিত ফ্যান কমিউনিটিকে মূল্যায়ন করে সেরা ও সবচেয়ে নিবেদিত ফ্যানবেসকে দেবে ‘Fandemonium’ খেতাব। তবে কোন মানদণ্ডে ফ্যানডম বাছাই ও মূল্যায়ন করা হবে, তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ভারতীয় কে-পপ ভক্তদেরও এই তালিকায় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘ফ্যানোমেনন’কে শুধু একবারের আয়োজন হিসেবে দেখছে না আয়োজকেরা। ইতিমধ্যেই এর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হওয়ার কথা উৎসবটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। ফলে কোরিয়ার বাইরের ভক্তদেরও সরাসরি এই আয়োজন উপভোগের সুযোগ হবে।
সিউলের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব মডার্ন অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এই পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংস্কৃতি বিনিময়বিষয়ক প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কমিটির সহসভাপতি এবং জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জেওয়াই পার্ক সংস্কৃতিমন্ত্রী চে হুই-ইয়ংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে কোরিয়ান সংস্কৃতির যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে এর দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ ভক্তদের এক জায়গায় এনে সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার বন্ধন আরো শক্ত করা—‘ফ্যানোমেনন’-এ উৎসবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সূত্র: রোলিং স্টোন ইন্ডিয়া


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









