বাংলাদেশ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল গেট-টুগেদার ও পুনর্মিলনী উৎসব।
রবিবার (২৩ আগস্ট) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যরা সুফি ও ফিউশন সংগীতের মূর্ছনায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন।
প্রতিদিনের ব্যবসায়িক কর্মব্যস্ততা ও যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়েই এই জমকালো মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
এই আয়োজনে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্ট আমদানিকারক, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, দেশের স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যান এই খাতের উদ্যোক্তারা। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল এই পেশার বাইরে এসে নিজেদের মধ্যে একটি সহজ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই পুনর্মিলনীর মূল উদ্দেশ্য।
উৎসবমুখর এই মিলনমেলায় আগত অতিথিরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময়, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ ও দীর্ঘ আড্ডায় মেতে ওঠেন। পেশাগত সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক অনন্য পারিবারিক উৎসবে। ব্যবসায়িক আলোচনার বাইরে গিয়ে সদস্যরা একে অপরকে নতুন আঙ্গিকে জানার সুযোগ পান, যা ভবিষ্যতে এই খাতের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া ও ঐক্যকে আরও মজবুত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। মঞ্চ মাতাতে আসে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড-বিলাওয়াল। তাদের পরিবেশিত মনোমুগ্ধকর সুফি ও ফিউশন সংগীতের সুরের মূর্ছনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক আনন্দঘন পরিবেশে রূপ নেয়।
সুফি মিউজিকের আধ্যাত্মিক ভাবাবেগ, ক্ল্যাসিক গজলের রোমান্টিক গভীরতা এবং আধুনিক ক্লাসিক রকের জাদুকরী ফিউশন সমন্বয়ে-বিলাওয়াল একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে। তাদের প্রতিটি পরিবেশনা উপস্থিত শ্রোতাদের এক অনন্য ও মায়াবী সংগীতাভ্রমণে নিয়ে যায়। ব্যান্ডের সুরের তালে মেতে ওঠেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক নেতৃবৃন্দও, যা যান্ত্রিক জীবনের সব ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর করে দেয়।
সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে (BMEISA) এই গেট-টুগেদার কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি রিণত হয়েছিল পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উৎসবে। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই আনন্দঘন আয়োজনের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় সফল ও স্মরণীয় আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যরা আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









