ভূমিকম্প, রাজতন্ত্র, বিপ্লব পেরিয়ে প্রায় তিন শতক ধরে বই আর মানুষের গল্প বলে চলেছে লিভরারিয়া বের্ত্রাঁ। লিসবনে কিছু রাস্তা আছে, যেখানে হাঁটলে মনে হয় শহরটি নিজের অতীত লুকিয়ে রাখেনি—বরং দরজা খুলে বসে আছে। চিয়াদোর রুয়া গারেত সেই রকমই এক রাস্তা। পাথরের ফুটপাত, পুরোনো বাড়ির দেয়াল, ক্যাফের টেবিল, মানুষের আসা-যাওয়া—সবকিছুর মাঝখানে একটি বইয়ের দোকান দাঁড়িয়ে আছে। তার নাম লিভরারিয়া বের্ত্রাঁ।
দোকানে ঢুকলে প্রথমে হয়তো মনে হবে, এটি আর দশটি সুন্দর বইয়ের দোকানের মতোই। তাকজুড়ে বই, পাঠকের আনাগোনা, কোথাও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা। কিন্তু একটু থামলেই বোঝা যায়, এখানে বইয়ের পাশাপাশি সময়ও সাজানো আছে।

কারণ এই দোকানের বয়স প্রায় তিন শতক।
১৭৩২ সালে পেদ্রো ফাওরে লিসবনে যে বইয়ের দোকানটি খুলেছিলেন, সেটিই আজকের লিভরারিয়া বের্ত্রাঁ। ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো এখনো চালু থাকা বইয়ের দোকান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বের্ত্রাঁর গল্প শুধু একটি পুরোনো দোকানের গল্প নয়। এটি আসলে একটি শহরের স্মৃতি, একটি দেশের সাহিত্য এবং বইয়ের সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ সম্পর্কের গল্প।
অষ্টাদশ শতকের লিসবন। বই তখন আজকের মতো সহজলভ্য নয়। বই বিক্রি ছিল একদিকে ব্যবসা, অন্যদিকে জ্ঞান ও সংস্কৃতির কাজ।
এই সময় ফরাসি বংশোদ্ভূত বই ব্যবসায়ী পেদ্রো ফাওরে লিসবনে একটি বইয়ের দোকান খোলেন। জায়গাটি ছিল রুয়া দিরেইতা দো লোরেতো এলাকায়। সেটিই পরবর্তী সময়ে বের্ত্রাঁ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন পরিচয় পায়।
১৭৪০-এর দশকে ফাওরের সঙ্গে যোগ দেন ফরাসি বই ব্যবসায়ী পিয়ের বের্ত্রাঁ। পরে দুই পরিবারের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। বইয়ের দোকানের নামও ধীরে ধীরে বের্ত্রাঁ পরিবারের নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
একটি বইয়ের দোকানের নাম এভাবেই এক পরিবারের নাম থেকে শহরের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নাম হয়ে গেল।

কোনো কোনো দিন ইতিহাসের বইয়ে লেখা থাকে। আবার কোনো কোনো দিন ইতিহাস নিজেই শহরের ওপর নেমে আসে।১ নভেম্বর ১৭৫৫। লিসবনে ভয়াবহ ভূমিকম্প হলো। তার সঙ্গে সুনামি ও আগুন। শহরের বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে গেল। বের্ত্রাঁর পুরোনো ভবনও রক্ষা পেল না। একটি বইয়ের দোকানের পক্ষে এ যেন শেষ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। কিন্তু বইয়ের গল্প এখানেই শেষ হলো না। ভূমিকম্পের পর দোকানটি সাময়িকভাবে অন্যত্র চলে যায়। পরে লিসবনের পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে ১৭৭৩ সালে এটি রুয়া গারেতের বর্তমান এলাকায় ফিরে আসে। সেই জায়গাতেই আজও বের্ত্রাঁ দাঁড়িয়ে আছে দোকানটি শুধু ভূমিকম্পের সাক্ষী নয়; এটি একটি শহরের পুনর্জন্মেরও সাক্ষী।
বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়াতেন কবি-লেখকেরা। সময় এগোতে থাকে। বের্ত্রাঁ ধীরে ধীরে শুধু বই কেনাবেচার জায়গা থাকে না। এটি হয়ে ওঠে লেখক, কবি ও চিন্তাবিদদের মিলনস্থল। পর্তুগালের বিখ্যাত সাহিত্যিক আলেকজান্দ্রে এরকুলানো, এশা দে কুইরোজ, আনতেরো দে কুয়েনতাল, রামালহো ওর্তিগাঁওসহ বহু লেখক এই বইয়ের দোকানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কখনো দোকানের ভেতর বই নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কখনো সাহিত্যিকদের আড্ডা বসেছে। কারও হাতে নতুন বই, কারও মাথায় নতুন উপন্যাসের ভাবনা। এক অর্থে বের্ত্রাঁ ছিল এমন এক জায়গা, যেখানে বই শুধু বিক্রি হতো না—বইয়ের ভেতরের পৃথিবী নিয়েও কথা হতো। আজকের দিনে আমরা যাকে ‘বুকস্টোর কালচার’ বলি, তার অনেকটাই এখানে বহু আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। লেখকেরা চলে গেছেন, বই রয়ে গেছে।

সময়ের সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো—মানুষ চলে যায়, কিন্তু কিছু জায়গা তাদের স্মৃতি ধরে রাখে। বের্ত্রাঁর দেয়াল ও কক্ষগুলোর নামেও সেই সাহিত্যিক ইতিহাসের ছাপ রয়েছে। দোকানের করিডর যেন একটি ছোট ইতিহাসের বই। সেখানে পুরোনো চিঠি, ছবি ও নানা স্মারক দিয়ে দোকানের অতীতের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
আজ সেখানে ঢুকলে একজন পাঠক একই সঙ্গে দুটি সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। একদিকে তাঁর হাতে হয়তো সদ্য প্রকাশিত কোনো উপন্যাস। ন্যদিকে, তাঁর পেছনের দেয়াল মনে করিয়ে দেয়—এই জায়গায় প্রায় তিনশ বছর ধরে মানুষ বই কিনছে।
বের্ত্রাঁর ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুরু থেকেই শুধু বই বিক্রির ব্যবসায় সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা পর্তুগিজ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির নানা গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করেছে।
বিশ শতকে এসে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় হতে থাকে। ১৯৩৮ সালে পোর্তোতে দ্বিতীয় বইয়ের দোকান খোলা হয়। পরে লিসবনের অ্যাভেনিদা দে রোমায় নতুন শাখা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে বের্ত্রাঁ একটি দোকান থেকে বইয়ের দোকানের নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। ১৯৩৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মুদ্রণ ব্যবস্থাও ছিল। পরে দেশজুড়ে শাখা বাড়তে থাকে।
অর্থাৎ পুরোনো ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে থেকেও বের্ত্রাঁ বুঝেছিল—টিকে থাকতে হলে সময়ের সঙ্গে হাঁটতে হয়। ‘বইয়ের দোকান’ থেকে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান।

একটি পুরোনো বইয়ের দোকানের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো জাদুঘরে পরিণত হয়ে যাওয়া। বের্ত্রাঁ সেই ফাঁদে পড়েনি।
আজ এটি পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ও পুরোনো বইয়ের দোকান-নেটওয়ার্কগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৬০টির বেশি বইয়ের দোকান এবং একটি অনলাইন স্টোর রয়েছে। প্রায় ৪০০ জন বই বিক্রেতা ও কর্মী এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—আধুনিক এই বিশাল নেটওয়ার্কের কেন্দ্র হিসেবে এখনও টিকে আছে চিয়াদোর সেই পুরোনো দোকানটি।
এখানে অনলাইন থেকে বই অর্ডার করা যায়, দোকান থেকে সংগ্রহের সুযোগ আছে, পাঠকদের জন্য সদস্যপদ রয়েছে। নিয়মিত বই নিয়ে আলোচনা, পাঠচক্র, লেখক-সাক্ষাৎ, বই প্রকাশ অনুষ্ঠান ও শিশুদের জন্য পাঠের আয়োজন হয়।
অতীত তাই এখানে বর্তমানের শত্রু নয়। বরং অতীতই বর্তমানকে শক্তি দিয়েছে।
বের্ত্রাঁর ইতিহাসে ‘আলমানাকে বের্ত্রাঁ’-এর কথাও আলাদা করে বলতে হয়।
কোনো কোনো বই আসলে বই নয়; তারা সময়ের ছোট ছোট জাহাজ। তাদের পাতার মধ্যে এক বছর, এক শহর, এক জাতির অভ্যাস, বিস্ময়, ভয় এবং হাসি বন্দী থাকে। ‘আলমানাকে বের্ত্রাঁ’ তেমনই একটি জাহাজ—যার প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৯৯ সালে, পর্তুগালের মুদ্রিত জগতের এক অস্থির সন্ধিক্ষণে। ১৯০০ সালের জন্য প্রকাশিত প্রথম সংখ্যাটি তখন হয়তো জানত না যে সে একদিন শতাব্দী পেরিয়ে ফিরে আসবে।
প্রথমে এটি ছিল পঞ্জিকা, কিন্তু খুব দ্রুত পঞ্জিকার সীমা অতিক্রম করল। তার পাতায় ঢুকে পড়ল সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান, কবিতা, ধাঁধা, চুটকি, প্রবাদ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিচিত্র সব তথ্য। একটি ছোট বইয়ের দোকান তার তাকগুলো উল্টে দিয়ে বলেছিল—“যা কিছু জানা দরকার, আর যা কিছু না জানলেও আনন্দ পাওয়া যায়, সব এখানে।”
প্রথম সংস্করণে প্রায় পাঁচ হাজার কপি ছাপা হয়েছিল। ১৯০৮ সালে সেই সংখ্যা প্রায় পনেরো হাজারে পৌঁছায়। অর্থাৎ মানুষ শুধু নতুন বছর আসার অপেক্ষা করত না; তারা নতুন আলমানাক আসারও অপেক্ষা করত।
১৯০০ থেকে ১৯৭১—এই দীর্ঘ সময় ধরে আলমানাকটি পর্তুগালের পরিবর্তনশীল সমাজের নীরব ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে রইল। রাজতন্ত্রের অবসান, প্রজাতন্ত্রের উত্থান, যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, নতুন প্রযুক্তি, নতুন সাহিত্য—সবকিছুর পাশ দিয়ে তার পাতাগুলো এগিয়ে গেল। তারপর, যেন কোনো অদৃশ্য নাবিক হঠাৎ জাহাজের নোঙর তুলে নিয়েছে, ১৯৭১-এর পর তার দীর্ঘ নীরবতা।
প্রায় চল্লিশ বছর পরে, ২০১১ সালে, ‘আলমানাকে বের্ত্রাঁ’ আবার ফিরে এল। মৃত বই কখনো কখনো মৃত থাকে না; পাঠকের স্মৃতিতে তারা ঘুমিয়ে থাকে। পুনরাগমনের পর এটি পুরোনো পাঠকদের কাছে নস্টালজিয়া এবং নতুন পাঠকদের কাছে এক সাংস্কৃতিক কৌতূহলের বস্তু হয়ে উঠল।
তারপর প্রতি বছর নতুন সংখ্যা—যেন সময়ের সঙ্গে পুরোনো একটি কথোপকথন আবার শুরু হল। ২০২৬-২৭ সালের ৮৬তম সংস্করণেও সেই পুরোনো রীতির সঙ্গে নতুন সময়ের সংলাপ রয়েছে: পর্তুগালের সংবিধানের পঞ্চাশ বছর, সাহিত্যিক স্মরণ, কবিতা, প্রবন্ধ, কার্টুন, রসিকতা, ধাঁধা, ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য।

এখানে আশ্চর্য বিষয়টি হলো—আলমানাক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে খুব কমই ভবিষ্যদ্বাণী করে; বরং সে ভবিষ্যৎকে অতীতের সঙ্গে একই পাতায় বসিয়ে দেয়। একটি তারিখের পাশে একটি কবিতা, একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্যের পাশে একটি রসিকতা, আর একটি জাতীয় স্মৃতির পাশে কোনো অখ্যাত মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস।
সম্ভবত এ কারণেই ‘আলমানাকে বের্ত্রাঁ’ এখনও বেঁচে আছে। ক্যালেন্ডারের বছর বদলায়, কিন্তু মানুষের কৌতূহল বদলায় না। আর যতদিন মানুষ জানতে চাইবে—আজকের তারিখের আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, কিংবা আগামীকালের পৃষ্ঠায় কী অপেক্ষা করছে—ততদিন এই পুরোনো আলমানাক তার ছোট্ট কাগজের জাহাজে করে সময়ের সমুদ্রে ভেসে থাকবে।
চিয়াদোর বর্তমান বের্ত্রাঁ বইয়ের দোকানে রয়েছে সাতটি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষের নিজস্ব আবহ আছে। দোকানের ভেতরের করিডরটি যেন সময়ের ভেতর দিয়ে হাঁটার পথ। ২০১৭ সালে দোকানের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘ক্যাফে বের্ত্রাঁ’। ফলে বই কেনার পাশাপাশি বসে থাকা, কফি পান করা কিংবা শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে থাকার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
আর ২০১৯ সালে লিসবন সিটি কাউন্সিল বের্ত্রাঁকে লোজা কম ইস্তোরিয়া—‘ইতিহাসের দোকান’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই কর্মসূচির লক্ষ্যই হলো শহরের ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলোর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রক্ষা করা।
বিশ্বের বহু পুরোনো বইয়ের দোকান একসময় বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু হারিয়ে গেছে যুদ্ধের মধ্যে, কিছু অর্থনৈতিক পরিবর্তনে, কিছু মানুষের পড়ার অভ্যাস বদলে যাওয়ায়।
বের্ত্রাঁ টিকে গেছে। কেন? সম্ভবত কারণ এটি কখনো শুধু ‘পুরোনো’ থাকার চেষ্টা করেনি।
বের্ত্রাঁ পুরোনো বইয়ের পাশে নতুন বই রেখেছে। লেখকের পাশে নতুন পাঠককে বসিয়েছে। দোকানের পুরোনো দেয়ালের ভেতর অনলাইন বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। পাঠচক্রের সঙ্গে আধুনিক বই প্রকাশের অনুষ্ঠান করেছে। বের্ত্রাঁর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এটাই—ঐতিহ্য মানে অতীতে আটকে থাকা নয়। ঐতিহ্য মানে সময় বদলালেও নিজের মূল পরিচয়কে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
আজ রুয়া গারেতে কেউ হয়তো শুধু একটি উপন্যাস কিনতে ঢুকছেন। তিনি হয়তো জানেনই না, তাঁর পায়ের নিচের মেঝে কত মানুষের পদচিহ্ন বহন করছে। হয়তো কোনো তাকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একটি বই তুলে নেবেন। বইটির পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বাইরে তাকাবেন। লিসবনের আলো তখন রাস্তার ওপর পড়ছে।
আর প্রায় তিনশ বছর দূর থেকে একটি বইয়ের দোকান যেন নিঃশব্দে বলে উঠবে— শেষ বলে কিছু নেই। একটি বই বন্ধ হওয়ার পরই তো আরেকটি বই শুরু হয়।
বের্ত্রাঁর ইতিহাসও তাই—একটি পুরোনো বই নয়, বরং প্রতিদিন নতুন করে লেখা একটি দীর্ঘ বাক্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









