হলিউড তারকা টম ক্রুজের নতুন সিনেমা ‘ডিগার’ বক্স অফিসে বড় ধরনের হতাশা তৈরি করেছে। মুক্তির আগেই নেতিবাচক সমালোচনার মুখে পড়া সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় প্রথম সপ্তাহান্তে মাত্র প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমন হলে গত ১৯ বছরে টম ক্রুজ অভিনীত কোনো সিনেমার প্রথম সপ্তাহান্তের এটিই হবে সবচেয়ে কম আয়।
শুধু তাই নয়, একই সময়ে মুক্তি পাওয়া অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ভেরিটি’র কাছেও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে ‘ডিগার’। সপ্তাহান্তে ‘ভেরিটি’ প্রায় ৩৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা ‘ডিগার’র চেয়ে চার গুণেরও বেশি।
প্রথম দিনেই হতাশাজনক আয়
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুক্তির প্রথম দিনে ‘ডিগার’ আয় করেছে মাত্র ৩.৪ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ‘ভেরিটি’ প্রথম দিনেই ১৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে।
এমনকি বড় তারকা বা তুলনামূলক বড় বাজেট না থাকা পুরোনো সিনেমা ‘রেসিডেন্ট ইভিল’র কাছেও পিছিয়ে পড়েছে ‘ডিগার’।
মুক্তির পর সিনেমাটির বেশির ভাগ সমালোচনাই ইতিবাচক হয়নি। অনেক সমালোচক সিনেমাটিকে ব্যর্থ প্রয়াস বা ‘মিসফায়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর ফলে দর্শকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বক্স অফিস বিশ্লেষকেরা। মুক্তির আগে সিনেমাটিকে ঘিরে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, নেতিবাচক প্রচারণায় তা দ্রুত কমে যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারেও ভালো করতে পারেনি
উত্তর আমেরিকার বাইরে ‘ডিগার’র আয়ও আশানুরূপ নয়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সিনেমাটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
ভারতের বাজারেও সিনেমাটির শুরুটা বেশ দুর্বল। প্রথম দিনে ভারতে ‘ডিগার’র নেট আয় হয়েছে মাত্র ৬৫ লাখ রুপি। অথচ টম ক্রুজের আগের সিনেমাটি ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই প্রায় ১৯ কোটি রুপি আয় করেছিল।
টম ক্রুজের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনায় ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে এমন দুর্বল সূচনা সিনেমাটির সামগ্রিক বক্স অফিস ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
১৯ বছরে টম ক্রুজের সবচেয়ে খারাপ ওপেনিং
বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় ‘ডিগার’র প্রথম সপ্তাহান্তের আয় প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারে থামতে পারে। এমন হলে ২০০৭ সালের পর এই প্রথম টম ক্রুজের কোনো সিনেমা প্রথম সপ্তাহান্তে ১০ মিলিয়ন ডলারও আয় করতে ব্যর্থ হবে।
এর আগে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া যুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘লায়ন্স ফর ল্যাম্বস’ প্রথম সপ্তাহান্তে ৬.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। সেটিই ছিল টম ক্রুজের সর্বশেষ সবচেয়ে দুর্বল ওপেনিং।
তবে ‘লায়ন্স ফর ল্যাম্বস’র বাজেট ছিল মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ডলার এবং শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নিজের খরচ তুলতে পেরেছিল। অন্যদিকে ‘ডিগার’র নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটিকে নির্মাণ ব্যয় ও অন্যান্য খরচ পুষিয়ে নিতে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে। বর্তমান বক্স অফিস পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টম ক্রুজের আগের সিনেমা ‘মিশন: ইমপসিবল – দ্য ফাইনাল রেকনিং’ উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ৭৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। সেই তুলনায় ‘ডিগার’র শুরুটা যে বড় ধাক্কা, তা স্পষ্ট।
কী নিয়ে ‘ডিগার’?
আলেহান্দ্রো ইনিয়ারিতু পরিচালিত ‘ডিগার’ একটি ডার্ক কমেডি ও ব্যঙ্গাত্মক সিনেমা। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক তেল ব্যবসায়ী, যে নিজেই একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ। এরপর সে পুরো বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, একমাত্র সে-ই এই বিপর্যয় থেকে সবাইকে রক্ষা করতে পারবে।
সিনেমাটিতে টম ক্রুজের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন জেসি প্লেমন্স, সান্দ্রা হুলার ও রিজ আহমেদসহ আরও অনেকে।
বক্স অফিসে সিনেমাটি হতাশাজনক সূচনা করলেও টম ক্রুজের অভিনয় অবশ্য প্রশংসা পেয়েছে। তবে শক্তিশালী তারকা উপস্থিতি এবং বড় বাজেট থাকা সত্ত্বেও নেতিবাচক সমালোচনা ও দর্শকদের অনাগ্রহ ‘ডিগার’র বাণিজ্যিক সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









