প্রেমের গল্পে অভিনয়ের ক্ষেত্রে বিক্রান্ত মাসের বিশেষ দক্ষতার প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী হারলিন শেঠি। ‘মুসাফির ক্যাফে’র প্রিমিয়ারে বিক্রান্তের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাকে আরও বেশি প্রেমের গল্পে অভিনয় করার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। হারলিনের কথায়, ‘‘প্রেমের গল্পে তোমাকে সত্যিই দারুণ মানায়। এমন গল্পে তোমার আরও বেশি অভিনয় করা উচিত।’’
এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিক্রান্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’ ও ‘মুসাফির ক্যাফে’ নিয়ে দর্শকদের তুলনা এবং বিক্রান্তের সঙ্গে ফের কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন হারলিন।
পরিচালক রুচির অরুণের ‘মুসাফির ক্যাফে’তে চন্দর, সুধা ও প্রীতির জটিল সম্পর্কের গল্প দর্শকদের মন জয় করেছে। বিক্রান্ত মাসে অভিনয় করেছেন চন্দরের চরিত্রে। অন্যদিকে, বেদিকা পিন্টো ও মহিমা মাকওয়ানা যথাক্রমে সুধা ও প্রীতির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।
ভোপাল ও মুসৌরিকে কেন্দ্র করে দুটি ভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে এগিয়েছে সিরিজটির কাহিনি। এখানে প্রেমকে শুধু রোমান্টিক আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং উচ্চাকাঙ্ক্ষা, জীবনের পরিকল্পনা, সম্পর্কের ভাঙন এবং নতুন করে নিজেকে আবিষ্কারের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
এই কারণেই বিক্রান্তের অভিনীত ‘মুসাফির ক্যাফে’র সঙ্গে একতা কাপুরের ২০১৮ সালের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’র তুলনা করছেন অনেক দর্শক। দুটি গল্পেই সম্পর্কের জটিলতা, হারানোর বেদনা এবং নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রেমের গল্পে বিক্রান্তের অভিনয়ের প্রশংসা
‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’-এ হারলিন অভিনয় করেছিলেন সামিরার চরিত্রে। প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অতীতের স্মৃতি কাটিয়ে উঠে নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টায় থাকা এক তরুণীর মানসিক টানাপোড়েন দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, বিক্রান্তের চরিত্র বীরও স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর জীবনে দ্বিতীয়বার ভালোবাসার সন্ধান পায়।
‘মুসাফির ক্যাফে’তেও চন্দরকে অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের সম্পর্কের মধ্যে দোলাচলে থাকতে দেখা যায়। ফলে দুটি সিরিজের চরিত্র ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিক্রান্তের সঙ্গে ‘মুসাফির ক্যাফে’র প্রিমিয়ারে দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে হারলিন বলেন, “প্রিমিয়ারে বিক্রান্তের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেখানে আমরা দুটি পর্ব দেখেছিলাম। তখন আমি ও শীতলকে বলেছিলাম, তোমরা প্রেমের চরিত্রগুলো এত ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলো।”
বিক্রান্তের অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, বিক্রান্ত এমন একজন সাধারণ ঘরের ছেলে, যার সঙ্গে সহজেই নিজেকে মেলানো যায়। তার অভিনয়ে আন্তরিকতা রয়েছে। তিনি যেভাবে ভালোবাসেন, তার মধ্যে একটা নির্মলতা আছে। ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’ এবং ‘মুসাফির ক্যাফে’—দুটিতেই সেই বিষয়টি স্পষ্ট। আমি তাকে বলেছিলাম, প্রেমের গল্পে তোমাকে সত্যিই দারুণ মানায়। তোমার আরও বেশি এমন গল্পে অভিনয় করা উচিত।”
সুধা না প্রীতি—কাকে বেছে নেবেন হারলিন?
‘মুসাফির ক্যাফে’ জনপ্রিয় হওয়ার পর দর্শকদের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘিরে আলোচনা শুরু হয়—চন্দরের জন্য কে বেশি উপযুক্ত, সুধা নাকি প্রীতি?
সুধা একজন স্বাধীনচেতা বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত আইনজীবী। জীবনের ভালোবাসার মানুষ চন্দরকে ছেড়ে নিজের পেশা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল সে। সুধার চলে যাওয়া চন্দরকে ভেঙে দিলেও, তার দেওয়া অনুপ্রেরণাই চন্দরকে পাহাড়ের কোলে নিজের স্বপ্নের ক্যাফে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, প্রীতি একজন আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী ট্রাভেল ব্লগার। জীবনের কঠিন সময়ে চন্দরের পাশে দাঁড়ায় সে। চন্দরের মন যে অতীতেই আটকে রয়েছে, তা জানা সত্ত্বেও নিঃশর্তভাবে তাকে ভালোবাসে এবং ‘মুসাফির ক্যাফে’ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এই দুই চরিত্রের মধ্যে কাকে বেছে নেবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে হারলিন বলেন, “আমার মনে হয়, এই সিরিজটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তিনটি চরিত্রই নিজেদের জায়গা থেকে ঠিক ছিল। আবার নিজেদের মতো করে ভুলও ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যখন দর্শক বুঝতে পারেন না কোনো চরিত্র ঠিক করছে, নাকি ভুল, কখনো তার সঙ্গে একমত হন, আবার কখনো হন না, কিংবা মনে হয় চরিত্রটি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো—তখনই দর্শক গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন। লেখনীর সৌন্দর্য এবং অভিনেতাদের অভিনয়ের কৃতিত্ব এখানেই। এই কারণেই সিরিজটি এত উপভোগ্য হয়েছিল। আমি তিনটি চরিত্রকেই ভালোবেসেছি।”

বিক্রান্তের সঙ্গে আবারও জুটি বাঁধবেন হারলিন?
‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’ মুক্তির পর থেকে বিক্রান্ত ও হারলিনের জুটির জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। তবে সময়ের সঙ্গে দুজনের অভিনয়জীবনই এগিয়েছে অনেকটা পথ।
‘কোহরা’ থেকে সাম্প্রতিক ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন হারলিন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের জীবনীভিত্তিক ছবি ‘টুয়েলভথ ফেল’-এ আইপিএস কর্মকর্তা মনোজ কুমার শর্মার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন বিক্রান্ত।
তাহলে কি আবারও পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে এই জুটিকে? হারলিন জানিয়েছেন, প্রযোজক একতা কাপুর তাদের আবার একসঙ্গে পর্দায় আনার বিষয়ে আগ্রহী।
এ প্রসঙ্গে হারলিন বলেন, “সত্যি বলতে, একতা কাপুর অনেক দিন ধরেই চাইছেন। একবার তার সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি বলেছিলেন, মানুষ তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখতে চায়। আমাদের কিছু একটা করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “সেটি ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’ হবে, নাকি অন্য কোনো প্রকল্প, তা জানি না। তবে দেখা যাক। আমি সত্যিই আশা করি, এমন কিছু একটা হবে। বিক্রান্তের সঙ্গে আবার কাজ করাও খুব আকর্ষণীয় হবে। কারণ, ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’ মুক্তির পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। সিরিজটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে।”
নিজেকে প্রেমের গল্পের প্রতি দুর্বল একজন মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে হারলিন বলেন, তার কাছে রোমান্সের গুরুত্ব সব সময়ই সবার ওপরে থাকবে। হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, “হয়তো একটি রোমান্টিক মিউজিক্যাল লাভ স্টোরি হতে পারে।”
হারলিনের এই মন্তব্যে ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’র অনুরাগীদের মধ্যে বিক্রান্ত ও হারলিনকে আবারও একসঙ্গে দেখার প্রত্যাশা আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সামিরা ও বীরের সেই পুরোনো প্রেমের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে নতুন কোনো রোমান্টিক গল্পে এই জুটি ফিরবে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









