অভ্যাস হলো এমন একটি আচরণ, যা বারবার করতে করতে একসময় মানুষের স্বভাবের অংশ হয়ে যায় এবং সে অনেক সময় চিন্তা না করেই তা করতে থাকে। অভ্যাস ভালোও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে।
ভালো অভ্যাস মানুষকে উন্নত করে আর খারাপ অভ্যাস তাকে দুর্বলতা ও অবনতির দিকে নিয়ে যায়। পবিত্র কোরআন মানুষকে অন্ধভাবে কোনো কিছু বারবার করার পরিবর্তে নিজের কাজ সম্পর্কে সচেতন হতে শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।’ (সুরা: আর-রাদ, আয়াত: ১১)
অর্থাৎ পরিবর্তন শুরু হয় মানুষের ভেতর থেকে—তার অন্তর, নিয়ত এবং দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে।
নেতিবাচক অভ্যাসগুলো আমাদের অজান্তেই অনেক শক্তি নষ্ট করে এবং সুন্দর ও পবিত্র জীবনযাপনের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। কোনো খারাপ অভ্যাস হতে পারে এমন একটি কথা, যা আমরা বারবার বলি; এমন কোনো দৃষ্টি, যাকে আমরা তুচ্ছ মনে করি; কিংবা এমন সময়, যা আমরা অযথা নষ্ট করি। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ না করলে একসময় তা এমন শৃঙ্খলে পরিণত হয়, যা আমাদের আত্মাকে উন্নতির পথ থেকে আটকে রাখে।
খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা একটি গোপন ইবাদত হতে পারে। এতে নিজের নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম রয়েছে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন কোনো অভ্যাস—কষ্টদায়ক কথা বলা, অনুচিত দৃষ্টিতে তাকানো, সময় নষ্ট করা, অতিরিক্ত মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার কিংবা দ্রুত রেগে যাওয়া—ত্যাগ করা এক মহান অর্জন এবং নুরের পথে প্রথম পদক্ষেপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ দেখাব।’ (সুরা : আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৯)
নেতিবাচক অভ্যাস ত্যাগের পদক্ষেপগুলো এমন—
অভ্যাসটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন
শুধু বলবেন না, ‘আমি পরিবর্তন হতে চাই।’ বরং সত্যতার সঙ্গে নির্দিষ্ট করুন—‘আমি নামাজ দেরিতে পড়া বন্ধ করব’, ‘আমি অতিরিক্ত রাত জাগা কমাব’, ‘আমি অর্থহীন তর্ক থেকে দূরে থাকব। লক্ষ্য যত স্পষ্ট হবে, পরিবর্তনের পথ তত সহজ হবে।
ছোট একটি পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন
প্রথম দিন থেকেই পরিপূর্ণতা আশা করবেন না। অভ্যাস এক দিনে দূর হয় না; বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে হয়। প্রতিদিন একটি করে পদক্ষেপ নিন। কখনো ভুল হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্য চান এবং আবার শুরু করুন।
সৎ নিয়তের সঙ্গে অভ্যাসটি ত্যাগ করুন
নিজের অন্তরে বলুন—‘আমি মানুষের জন্য নয়, আল্লাহর ভালোবাসায় এই অভ্যাসটি ত্যাগ করছি।’ এই নিয়তই আপনার দৃঢ়তার জ্বালানি হয়ে থাকবে, এমনকি রমজান শেষ হওয়ার পরও। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।’ (মুসনাদে আহমদ)
একটি অভ্যাসের পরিবর্তে অন্য একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন
খালি জায়গা রাখবেন না। সেই সময়কে এমন কাজে পূর্ণ করুন, যা আপনাকে উন্নত করে। যেমন—অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের পরিবর্তে সকাল-সন্ধ্যার জিকির, অনর্থক আড্ডার পরিবর্তে কোরআন তিলাওয়াত আর গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার পরিবর্তে শেষ রাতে ইবাদত করা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









