ভেনেজুয়েলার সাবেক শিল্পমন্ত্রী অ্যালেক্স সাবকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অর্থনৈতিক ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
৫৪ বছর বয়সী কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এই ব্যবসায়ীকে মিয়ামির ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ভেনেজুয়েলার দরিদ্র জনগণের জন্য চালু করা রাষ্ট্রীয় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘সিএলএপি’ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অভিযোগ রয়েছে যে অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য কর্মসূচি থেকে চুরি করা শত শত মিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থও তিনি পাচার করেছেন।’
সাবকে শনিবার ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাবের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শুরু হয় সাবেক বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজের শাসনের শেষ দিকে। শাভেজ ১৯৯৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
পরবর্তীতে নিকোলাস মাদুরোর আমলে সাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি সরকারের হয়ে অর্থপাচার ও গোপন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করতেন। এর বিনিময়ে তিনি ভেনেজুয়েলার নাগরিকত্ব এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট পান।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২০ সালে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে তাকে গ্রেফতার করে এবং পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি মুক্তি পান।
২০২৪ সালে মাদুরো তাকে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তাকে সব পদ থেকে সরিয়ে দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









