যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালালে তা মোকাবিলায় ইরানের নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এমন লোক রয়েছেন, যারা সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং মার্কিন সেনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘায়ি আরও জানান, খার্গ দ্বীপ দখলের মতো যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেহরান যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুটোকেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচনা করে।
বাঘায়ির ভাষায়, ‘কূটনীতি আমাদের জাতীয় স্বার্থ অর্জনের একটি মাধ্যম, যেমন যুদ্ধও একটি মাধ্যম।’
ইরানি মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। তার দাবি, চুক্তিটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে ১৪টি ধারা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে পরামর্শ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি চুক্তির ভাষা স্পষ্ট হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এটি ভঙ্গ করার কোনো অজুহাত নেই বলেও মন্তব্য করেন।
বাঘায়ি জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা তেহরানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী কিছু প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বাঘায়ি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো বৈরিতা নেই। তবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যতদিন এ ধরনের হামলা চলবে, ততদিন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও জবাব দিতে থাকবে।’
সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









