জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিউশু অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ সব গুজব সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং উদ্ধারকাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ অনেক ব্যবহারকারী আগের বছরের বিভিন্ন ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ছবি পোস্ট করে দাবি করছেন, সেগুলো মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের ছবি। কিন্তু এসব ছবির সঙ্গে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কোনো সম্পর্ক নেই।
এছাড়া কিছু পোস্টে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হচ্ছে যে, এই ভূমিকম্প কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ভূমিকম্পটি আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ওই পোস্টটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি প্রায় প্রতিদিনই কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।
এ দিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভুয়া খবরও ছড়িয়ে পড়ে যে, ভূমিকম্পের পর একটি চিড়িয়াখানা থেকে একটি সিংহ পালিয়ে গেছে। সেই পোস্টের সঙ্গে বিদেশে তোলা একটি সিংহের ছবি ব্যবহার করা হয়। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কুমামোতো অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের সময়ও একই ধরনের ভুয়া পোস্ট ছড়ানো হয়েছিল। সে সময় মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্যোগের সময় ভুয়া তথ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। তাই সবাইকে সামাজিক মাধ্যমে দেখা তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস বা শেয়ার না করার এবং সরকারি সংস্থা ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









