যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
সোমবার (৩ আগস্ট) পশ্চিম জেরুজালেমে বোর্ডের পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর এ বক্তব্য দেওয়া হয়।
বোর্ড অব পিস জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবর সঠিক নয়। হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার ভিত্তিতে সব ধরনের হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধ্বংসের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে সরে যাবে।
‘ইয়েলো লাইন’ বলতে গাজার ভেতরে ইসরাইলি বাহিনীর বর্তমান অবস্থানের সীমারেখাকে বোঝানো হয়।
বোর্ড আরো জানায়, তাদের লক্ষ্য হলো গাজায় সব ধরনের অস্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সশস্ত্র শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে হামাস বলেছে, ইসরাইল চুক্তির নিজস্ব শর্ত পূরণ না করলে তারা এই সমঝোতা বাস্তবায়ন করবে না।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তবে ইসরাইল এখন পর্যন্ত হামলা বন্ধে সম্মত হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় এক হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ঘোষণার পরও ৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রকাশিত চুক্তির খসড়া ইসরাইলের অবস্থান পুরোপুরি তুলে ধরে না। তাদের আপত্তির বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ নতুন করে মন্ত্রিসভার ভোটের দাবি জানিয়েছেন।
চুক্তির মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ক এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় বেসামরিক মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মধ্যস্থতাকারীদের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









