গাজায় একটি গাড়ির ভেতর আটকে ছিল পাঁচ বছরের শিশু হিন্দ রাজাব। চারপাশে ছিল গোলাগুলির ভয়াবহতা। গাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যরা তখন একে একে মারা গেছেন। জীবিত ছিল শুধু ছোট্ট হিন্দ। মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে সাহায্যের জন্য কাঁদছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনা গাজা যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা হয়ে ওঠে।
এবার ঘটনার প্রায় দুই বছর পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, তাদের সেনারা হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে তারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ওই ঘটনায় হিন্দ গাড়ির ভেতর আটকে পড়েছিল। তার খালা, চাচা ও তিন চাচাতো ভাইবোন ইতিমধ্যে নিহত হয়েছিলেন। হিন্দ ফোনে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েছিল। তাকে উদ্ধারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
১২ দিন পর ওই এলাকা থেকে হিন্দ, তার পরিবারের সদস্য এবং দুই অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগে জানিয়েছিল, হিন্দ নিহত হওয়ার এলাকায় তাদের সেনারা উপস্থিত ছিল না। কিন্তু কয়েক মাসের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর বুধবার তারা জানায়, সেনারা তাদের দিকে এগিয়ে আসা গাড়িটিতে গুলি চালিয়েছিল। পরে হিন্দকে উদ্ধারে যাওয়া ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করেও একটি গোলা ছোড়া হয়।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে এমন তদন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন-এর গবেষক ড্যান ওয়েন বলেন, গত এক দশকে এ ধরনের তদন্তের খুব সামান্য অংশই অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে গেছে।
হিন্দের দাদি জানিয়েছেন, তারা ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন না। তাদের প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার শুধু একটি দেশের আদালত থেকে নয়, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেও নিশ্চিত হবে।
হিন্দের মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের শোকের গল্প নয়। এটি যুদ্ধের মধ্যে শিশু, চিকিৎসাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং জবাবদিহির বড় প্রশ্নও সামনে এনেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









